শবে বরাতের ফজিলত এবং শবে বরাতের আমল-সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক | Rahul IT BD

শবে বরাতের ফজিলত এবং শবে বরাতের আমল-সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক

প্রিয় পাঠক আজকের আর্টিকেলে আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করব শবে বরাত, শবে বরাতের ফজিলত, শবে বরাতের আমল নানাবিধ বিষয় সম্পর্কে। আশা করছি আজকের এই পোস্টটি অনেক বেশি ইনফরমেটিভ হবে। 
শবে বরাতের ফজিলত এবং শবে বরাতের আমল
তাই আপনি যদি শবে বরাত সম্পর্কে জানতে চান, তাহলে আজকের এই আর্টিকেলটি আপনার জন্য।

ভূমিকা

প্রিয় বন্ধুগণ আপনারা অনেকেই শবে বরাত, শবে বরাতের ফজিলত সম্পর্কে জানতে বা তথ্য পেতে ইন্টারনেটে সার্চ করে থাকেন। আপনাদের এসব দিক বিবেচনা করে আজকের আর্টিকেলটি আপনাদের জন্য লেখা। আশা করি আপনারা আজকের আর্টিকেলটি পরে উপকৃত হবেন। তাই মনোযোগ দিয়ে আর্টিকেলটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়তে থাকুন।

শবে বরাতের ফজিলত এবং শবে বরাতের আমল-সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক

শাবান মাসের মধ্যে রজনী বা শবে বরাত সম্পর্কে আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) বলেছেন রমজান মাসের পর যে মাসে রোজা রাখতে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। সেই মাসের নাম সাবান মাস। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনাহা তিনি বলতেন, শাবান মাস আসলে নবী রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এত বেশি রোজা রাখতেন। 

মনে হতো যে তিনি রোজা ছাড়বেনই না, সারা মাস রোজা রাখবেন। এমনিতে এই মাসটা বরকতময় এবং এই মাসে আল্লাহ পাক তার রহমতের বিপুলসংখ্যক মানুষকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দান করবে। এ মাসে আল্লাহর রহমত বরকতের স্বার্থে নবী-রাসূলুল্লাহ সাঃ বেশি বেশি রোজা রেখেছেন। 

শাবান মাসে বেশি বেশি রোজা রাখা সুন্নত। শাবান মাসে আমাদের বেশি বেশি রোজা রাখতে হবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম শাবান মাসে বেশি বেশি রোজা রাখতেন এবং আমল করতেন। আল্লাহ তাআলা সবাইকে শাবান মাসে বেশি বেশি আমল করার তৌফিক দান করুন। 

ইসলামের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ রাত হল লাইলাতুল কদরের রাত। এই রাতে আল্লাহ তাআলা সব মানুষকে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেন দুই শ্রেণীর মানুষ ছাড়া যারা শিরক করে এবং হিংসুক মানুষের সাথে ঝগড়া ফ্যাসাদ করে এই ধরনের মানুষকে আলাদা ক্ষমা করেন না। 

এই রাত উপলক্ষে নিজেদেরকে শিরক থেকে মুক্ত করার চেষ্টা করব, একটা পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালাবো, যে আমার বিশ্বাসে কর্মে কাজে শিরক আছে কিনা, শিরক থেকে নিজেকে পবিত্র করব যাতে ঐ রাতে ক্ষমার যোগ্যতা অর্জন করতে পারি। 

দ্বিতীয়ত হিংসা আছে কিনা, ঝগড়া ফ্যাসাদ করার প্রবণতা আছে কিনা বা মানসিকতা আছে কিনা তা তওবা করার মাধ্যমে নিজেকে পরিচ্ছন্ন করে নেব। আল্লাহর সাধারন ক্ষমা পাওয়ার জন্য। সুনির্দিষ্ট ভাবে ঐ দিন বা ঐ রাতে বিশেষ কোনো ইবাদত করার জন্য সুনির্দিষ্ট কোন হাদিস বর্ণিত হয় নাই। 

আমাদের দেশের বেশিরভাগ মানুষই জানেন যে শবে বরাত মানে ভাগ্য নির্ধারণ করার রাত। অনেকে মনে করেন যে শবে বরাত ওই রাতে আমাদের ভাগ্য নির্ধারণ করা হয়। এ সম্পর্কে কোন সহি হাদিস নেই। ভাগ্য ঠিক হয় সেই রাতে যে রাতে কোরআন শরীফ নাযিল হয়েছিল অর্থাৎ লাইলাতুল কদরের রাতে। 

আর আমরা সবাই শবে বরাতের রাতে ভাগ্য নির্ধারণ হবে বলে হুমড়ি খেয়ে পড়ি। তবে এই রাতে আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে সাধারণ ক্ষমা করেন বিশেষ দুই শ্রেণীর মানুষ ছাড়া। সবচেয়ে বড় চেষ্টা করতে হবে এই মাসে নফল সিয়াম করা।

শবে বরাত সম্পর্কে হাদিস-সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিন

নবীজি বলছেন হে আমার সাহাবীরা তোমাদের সামনে এমন একটা যুগ আসছে, আমার সুন্নতটা ধরে রাখা হাতের মুঠোর মধ্যে আগুন ধরে রাখার মতন। ঐ যুগে ঈমান ধরে রাখা এবং সুন্নত ধরে রাখা হাতের মুঠোয় আগুন ধরে রাখার মত হবে। 

ঐ যদি তোমরা আমার একটা সুন্নতকে জীবিত করতে পারো, তাহলে ৫০ জন শহীদ সাহাবীর নেকি পাবা। মানে শুধু নেকি না আপনি ৫০ জন শহীদ সাহাবীর নেকী পাবেন যখন একটা সমাজে সুন্নত বলতে গেলে আর নাই, আর আপনি সেটা জীবিত করলেন। 

নবী করিম সাঃ বলেছেন শাবান মাসের মধ্যে রজনীতে আল্লাহ তায়ালা তার রহমতের বৃষ্টি প্রশস্ত করেন সুবহানাল্লাহ। আল্লাহ পাক তার সমস্ত সৃষ্টিকে মাফ করে দেন, তাদেরকে ব্যতীত যে আল্লাহর সাথে শিরক করে, আর যে ব্যক্তি অন্তরে মানুষের সাথে বিদ্বেষ পোষণ করে। এই দুই শ্রেণীর মানুষ ছাড়া আল্লাহপাক সমস্ত মানুষকে মাফ করে দেন।

শবে বরাত কত তারিখে-জেনে নিন 2024

শবে বরাত ইসলামী ক্যালেন্ডারের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাত এবং এটি শাবানের মাঝামাঝি ( শবানের ১৪ এবং ১৫ তারিখের মধ্যবর্তী রাতে) উদযাপিত হয়। এই বরকতময় রাত ১৪ শাবানের সূর্যাস্তের সময় শুরু হয় এবং ১৫ শাবানের ভোরে শেষ হয়। 

শবে বরাত হল এমন একটি রাত যেটিকে মুসলমান ক্ষমার রাত হিসেবে পালন করে, সারারাত প্রার্থনা করে আল্লাহর কাছে দোয়া প্রার্থনা করে। এই বছর শবে বরাত ২০২৪ ফেব্রুয়ারি মাসের ২৫ তারিখ রাতে হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে সঠিক তারিখটি শাবান ১৪৪৪ সালের চাঁদ দেখা সাপেক্ষে।

শবে বরাত কি বিদআত? -জেনে নেওয়া যাক

বিদআত অর্থ সংযোজন অর্থাৎ যে কাজটি আল্লাহর নবী-রাসূল (সাঃ) কোনদিন করেননি। আর এই সংযোজনের বিষয়ে প্রিয় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিষেধ করে গেছেন। সুন্নতের বিপরীত ই হলো বিদআত। মুসলিম সমাজ বহু ধরনের বিদআতে অভ্যস্ত। 

অনেকগুলো বিদআতের মধ্যে একটি হলো এই শবে বরাত কিংবা লায়লাতুল বরাত বলে কোন শব্দ কুরআন ও হাদিসে নেই। কুরআনে যা আছে সেটা হল লাইলাতুল কদর। কিন্তু শবে বরাত বলে কিছু নেই। পৃথিবীর কোন মুসলিম দেশে এই শবে বরাত পালন হয় না শুধুমাত্র বাংলাদেশ ও পাকিস্তান এটা পালন করে থাকে। 

ইসলাম সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান না থাকায় এদেশের মুসলমানরা নানা রকম বিদআত এমনকি শিরকের মত ভয়ংকর পাপে নিজেদের জড়িয়ে ফেলেছে। শবে বরাত উপলক্ষে রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি, মসজিদ মাদ্রাসা, সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আলোকসজ্জা করা হয় এসব কাজে একদিকে লাখ লাখ টাকা অপচয় করা হয়। 

অন্যদিকে এগুলা বিদআত এমনকি মসজিদের আলোকসজ্জা করাও বিদআত। শবেবরাত একটি বিদআত তাই এটি পালন করা কিংবা এই রাতে নেকির আশায় সালাত আদায় করা যাবে না। অনেকে ভাবতে পারেন সালাত যখন আদায় করেছি সেটা খারাপ হয় কি করে? 

এটা তো ভাল কাজ তবে শবে বরাত পালন করা যেহেতু বিদআত তথা সংযোজন আর সংযোজন ইসলামের নিষেধ অতএব এ থেকে বিরত থাকা উচিত। বিদআত বিদআতি এখানে ভালো বিদআত বা খারাপ বিদআত বলে কিছু নেই। কারণ সব রকম বিদআতই খারাপ ও ইসলামের অগ্রহণযোগ্য।

মুসলিম সমাজে প্রচলিত কয়েকটি বিদআত
  •  মৃতদের আত্মার পুনরাগমনে বিশ্বাস করা
  •  হালুয়া রুটি ও এ ধরনের বিভিন্ন খাবার তৈরি করা
  •  অনেকের ছবি ও মূর্তি কৃত মিষ্টান্ন তৈরি করে থাকে
  •  মিলাদ ও জিকিরের অনুষ্ঠান করা
  •  শবে বরাত কে কেন্দ্র করে কবর জিয়ারত করা
  • আসুন শবে বরাতের নামে এই সকল বিদআতি ইবাদত বর্জন করে সহি হাদিসের আলোকে নিজেদের পরিশুদ্ধ করি। আল্লাহ আমাদের সেই তৌফিক দান করুন।

পরিশেষে

প্রিয় বন্ধুগণ আপনারা যদি আর্টিকেলটি প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত মনোযোগ দিয়ে পড়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই শবে বরাত এবং এর ফজিলত সম্পর্কে বিস্তারিত ভাবে জানতে পেরেছেন। আমি আশা করি আপনারা উপকৃত হয়েছেন। যদি কিছুটা উপকৃত হয়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই আর্টিকেলটি সকলের সাথে শেয়ার করবেন।

এ ধরনের আর্টিকেল সম্পর্কে জানতে আমাদের ওয়েবসাইটটি নিয়মিত ভিজিট করতে থাকুন। আবার দেখা হবে নতুন কোন আর্টিকেলে অবশ্যই সে পর্যন্ত আমাদের পাশেই থাকুন। সবশেষে আমি আপনার এবং আপনার পরিবারের মঙ্গল কামনা করে আজকের মত এখানেই শেষ করছি।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url