ওজন কমানোর ১০টি উপায় এবং মেয়েদের দ্রুত ওজন কমানোর উপায় | Rahul IT BD

ওজন কমানোর ১০টি উপায় এবং মেয়েদের দ্রুত ওজন কমানোর উপায়

প্রিয় পাঠক আজকের আর্টিকেলে ওজন কমানোর উপায়, মেয়েদের দ্রুত ওজন কমানোর টিপস, ওজন কমানোর খাবার তালিকা এবং ওজন কমানোর ডায়েট চার্ট ইত্যাদি বিষয় নিয়ে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে। যারা উক্ত বিষয় সম্পর্কে জানতে আগ্রহী তারা শেষ পর্যন্ত এই পোস্টটি পড়তে থাকুন।
ওজন কমানোর উপায় এবং মেয়েদের দ্রুত ওজন কমানোর উপায়
তাই আপনি যদি প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত এই আর্টিকেলটি পড়তে থাকেন তাহলে নিশ্চয়ই এই সংক্রান্ত বিষয় সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন।

ভূমিকা

প্রিয় বন্ধুগণ শরীরের ওজন বৃদ্ধি পেলে বিভিন্ন ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হয়। আমাদের অসচেতনতার কারণে এবং অস্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণের ফলে স্বাভাবিকভাবে ওজন বৃদ্ধি পায়। ওজন কমানোর বিভিন্ন উপায় সম্পর্কে জানতে আমরা ইন্টারনেটে সার্চ করে থাকি। 

আজকে কি আর্টিকেলে ওজন কমানোর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে এবং সহজ উপায় গুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। আজকের আর্টিকেলটি অনেক বেশি ইনফরমেটিভ হবে। তাই মনোযোগ দিয়ে পড়তে থাকুন এবং ওজন কমানোর উপায় গুলো সম্পর্কে জানতে থাকুন।

ওজন কমানোর উপায় এবং মেয়েদের দ্রুত ওজন কমানোর উপায় সম্পর্কে জেনে নিন

প্রিয় বন্ধুগণ আপনার ওজন যেমন একদিনে বৃদ্ধি পায়নি তেমনি তাড়াহুড়া করে ওজন কমানো যাবে না। মনে রাখতে হবে আপনার ওজন যেমন ধীরে ধীরে বেড়েছে তেমনি ঠিক এমন প্রক্রিয়া অবলম্বন করতে হবে ওজন কমানোর জন্য যা ধীরে ধীরে আপনার শরীরের ওজন কমাবে বা বাজে চড়বে ঝরাবে। 

সেই পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে। মানে আমরা অনেকে রাতারাতি ওজন কমাতে চাই। চর্বি জাতীয় খাবার পরিহার করতে হবে, মিষ্টি জাতীয় খাবার যত কম খাওয়া যাবে তত ভালো। আপনার বাসায় যদি লিফট থাকে লিফট ব্যবহার না করে সিঁড়ি দিয়ে উপরে ওঠার চেষ্টা করুন। 

যদি ঘন ঘন খেয়ে থাকেন পেট খালি রেখে খান। আপনাকে খাবারের ব্যাপারে খুবই সচেতন হতে হবে পাশাপাশি এক্সারসাইজ করার চেষ্টা করতে হবে। কার্বোহাইড্রেট এবং ক্যালোরিজ জাতীয় খাবার খুব সামান্য পরিমাণ গ্রহণ করতে হবে। পায়ে হেঁটে চলার অভ্যাস গড়ে তুলুন। 

আপনাকে বাসা থেকে বের হয়ে যদি অফিসে যেতে হয় বাসে করে তাহলে বাস স্টপেজ পর্যন্ত বাসা থেকে হেঁটে যাওয়ার অভ্যাস তৈরি করুন। এতে দেখা যাবে আপনার কমপক্ষে ১৫ থেকে ৩০ মিনিট হাঁটার অভ্যাস তৈরি হয়েছে, যা আপনার শরীরের জন্য খুবই ভালো। 

এর ফলে দেখবেন যে আপনার শরীরের ক্যালরি বাড়ানো হচ্ছে। যে আপনার ওজন কমাতে ভূমিকা রাখবে। পরিমিত খাবার খার অভ্যাস গড়ে তুলুন, পেটটাকে খালি রাখুন।

বন্ধুরা আঁশযুদ্ধ খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে সবজি খাওয়ার প্রচুর খেতে হবে। পেট ভরে খেতে চাইলে আপনি সবজি দিয়ে পেটটাকে ভরাতে পারেন কার্বোহাইড্রেট বা অন্য কোন কিছু খাবার দিয়ে পেট ভরানো উচিত হবে না। 

মিষ্টান্ন যাতে ও খাবারকে এভয়েড করার চেষ্টা করবেন যা শরীরের মধ্যে বাজে ফ্যাট তৈরি করতে পারে। আমাদের বয়স যখন ১২ থেকে ৩০ এর মধ্যে থাকে তখন আমরা প্রচুর পরিমাণে বিভিন্ন ধরনের খাবার গ্রহণ করেছি। 

তারপরও আমাদের শরীর ঠিক থেকেছে কারণ আমরা সে সময় খেলাধুলা করেছি নানান ব্যস্ততার মধ্যে থেকেছি যার কারণে এর প্রভাব শরীরের খুব একটা পড়েনি ক্লান্তি ভাব বা দুর্বলতা এগুলো আমাদের শরীরের মধ্যে তখন দেখা যায়নি কিন্তু এখন বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে এ ধরনের সমস্যা গুলো দেখা গেছে।

এর কারণ হলো যে খাবার গ্রহণ আমরা আগের মতই করছি কিন্তু সেই হিসেবে পরিশ্রম বা খেলাধুলা করছি না তাই আমাদের শরীরের ওজন বৃদ্ধি পাচ্ছে কোনোভাবেই ওজন কমাতে পারছি না। 

মেয়েরা দ্রুত ওজন কমাতে চাইলে ডায়েটমেন্ট এর পাশাপাশি নিয়মিত এক্সারসাইজ করতে হবে তাহলে ওজন স্বাভাবিকভাবে ধীরে ধীরে কমে আসবে।

লেবু দিয়ে ওজন কমানোর উপায়-সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক

ওজন কমানোর জন্য লেবু পানি কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। আমাদের যাদের ওজন স্বাভাবিক এর থেকে অনেক বেশি রয়েছে। আমি যদি প্রতিদিন সকালে খালি পেটে লেবু পানি খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলেন তাহলে ধীরে ধীরে আপনার শরীরের বাদে চর্বি গুলো কাটতে শুরু করবে। 

এক্ষেত্রে প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে হালকা কুসুম গরম পানির সাথে গোটা একটি লেবু অথবা অর্ধেক লেবুর রস মিশিয়ে পান করতে পারেন, আপনি যদি চান এর সাথে মধু মিশিয়ে খেতে পারেন,খেতে ভালো লাগবে। 

আপনি প্রতিদিন যদি এভাবে নিয়মিত খেতে পারেন তাহলে কয়েক সপ্তাহের ভেতরে আপনি দেখতে পাবেন আপনার শরীরের বাজে চর্বি গুলো কেটে শরীরটা অনেক হালকা হয়ে গেছে।

ওজন কমানোর উপায় ডায়েট-সম্পর্কে জেনে নিন শতভাগ কার্যকর

আমাদের যাদের ওজন অস্বাভাবিক মাত্রায় বেশি রয়েছে তারা সবাই ওজন কমানোর জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। মানে ব্যাপারটা এমন হয়েছে যে কে কত দ্রুত ওজন কমাতে পারে। এই ইচ্ছাটা সবার মধ্যে রয়েছে কিন্তু সঠিক লাইফ স্টাইল গড়ে তুলতে না পারলে তা সম্ভব নয়। 

এর জন্য আপনাকে খাবারের তালিকায় ক্যালোরি এবং কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার কম পরিমাণে রাখতে হবে। পরিবার মত পানি পূরণ করতে হবে, প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে তিন কোয়া রসুন খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন, সকালে লেবু পানি খাওয়ার অভ্যাস করুন। 

যা শরীরের বাজে চর্বি কাটতে সহায়ক ভূমিকা রাখে। খাবারের তালিকায় প্রচুর পরিমাণে সবজি রাখুন, দিনের বেলায় ঘুমানোর চেষ্টা কম করুন, নিয়মিত ব্যায়াম এবং খেলাধুলা করুন। তাই সুন্দর একটি লাইফস্টাইল হতে পারে আপনার শরীর কমানোর অন্যতম উপায়।

ওজন কমানোর খাবার তালিকা-সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক দারুন কার্যকর

প্রিয় বন্ধুগণ ওজন কমাতে খাবারের তালিকায় আপনি নিম্নের খাবার গুলো রাখতে পারেন যা আপনার ওজন কমাতে সবাই ভূমিকা রাখবে।
  • আপনি দুপুরে এক চামচ ভাত খেতে পারেন
  • অথবা দুইটা রুটি
  • ছোট বাটির এক বাটি ডাল
  • একবাটি সবুজ সবজি
  • সঙ্গে এক পিস মাছ থাকতে পারে
  • সপ্তাহে দুদিন মুরগির মাংস খেতে পারেন
  • খাবার শেষ হলে শসা অথবা টক দই খেতে পারেন
  • পেট ভরে খাবেন না বিশেষ করে কার্বোহাইড্রেট অর্থাৎ ভাত বা রুটি খেয়ে পেট ভরাবেন না
  • প্রয়োজনে সবজি বেশি পরিমাণে খেয়ে পেট ভরতে পারেন।
  • বাঁধাকপি, পটল, সিম, গাজর, উজ্জে, ফুলকপি, পালং শাক, বাঁধাকপি, পাতাকপি ইত্যাদি খাবার তালিকা রাখতে পারেন।

দ্রুত ওজন কমানোর উপায়-সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিন শতভাগ কার্যকর

ওজন বৃদ্ধি যেমন একদিনে হয় নাই তেমনি দ্রুত ওজন কমানো আসলে তত দ্রুত সম্ভব হয় না। তবে আপনি যদি লেগে থাকেন তাহলে সেটা দ্রুতই কমে যাবে। অনেকেই দ্রুত ওজন কমাতে যে বিভিন্ন ধরনের হেলদি খাবার না খাওয়ার কারণে বিপরীত দিকে তারা আরো ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। 

আপনাকে ডায়েট প্লান করতে হবে আপনার খাবারের তালিকার ভিতরে সুষম খাবার গুলো রাখতে হবে বেশি পরিমাণে হ্যাঁ। আমরা অনেকেই দ্রুত ওজন কমাতে যে সকালের নাস্তা এবং রাতের খাবার অনেকে বাদ দিই। যেটা মোটেও উচিত নয় আপনি তিন বেলায় খান কিন্তু পরিমানে খুবই কম খাবেন। 

এই খাবারের সাথে ক্যালরিযুক্ত খাবার বা কার্বোহাইড্রেট যুক্ত খাবার একটু কম খেতে হবে আমি যত খাবার খাওয়ার চেষ্টা করতে হবে। বাইরের খাবারগুলো এভোয়েড করতে হবে ফাস্টফুড এর খাবার কার অভ্যাস থাকলে  তা পরিহার করা উচিত। 

নিয়মিত ডায়েটমেন্ট করুন বাজে খাবার, বাজে অভ্যাস থাকলে সেগুলো পরিত্যাগ করুন সুন্দর একটি লাইফ স্টাইল মেইনটেইন করুন এবং নিয়মিত শরীর চর্চা করুন দেখবেন আপনার ওজন দ্রুতই কমে যাচ্ছে ধারাবাহিকভাবে।

মেয়েদের ওজন কমানোর ডায়েট চার্ট-সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক

আপনি যদি সকালের নাস্তায় ডিম খান, শাকসবজি খান এর মধ্যে প্রোটিন রয়েছে ভিটামিন রয়েছে যেটা আপনার শরীরের ওজন কমাতে সহায়তা করবে। সকালে উঠে যদি আপনি রুটি খান দুই থেকে তিনটা বা ভাত খান তাহলে প্রচুর পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট রয়েছে এর মধ্যে। 

যার কারণে আমরা শরীরের বাজে চর্বি তৈরি হবে শরীরের ওজন বৃদ্ধি করবে। তাই সকালে নাচাতে একটা ডিম হতে পারে বাধা হতে পারে বা সহ্য হতে পারে। দুপুরের খাবারে আপনি সবজি খেতে পারেন মাছ খেলে এক পিস মাছ খেতে পারেন। 

আর শাকসবজি অবশ্যই এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল দিয়ে রান্না করার চেষ্টা করবেন, কারণ বাজারে যে সমস্ত খাবারের তেল পাওয়া যায় তা প্রসেস করা যা শরীরের জন্য খুবই ক্ষতিকর। তাই ক্ষতিকর তেল খাওয়ার অভ্যাস পরিত্যাগ করতে হবে। 

আপনি দুপুরে খুবই সামান্য পরিমাণ ভাত নিতে পারেন এবং আস্তে আস্তে বাদ দিলে আরো বেশি ভালো হয় পরিমাণে খুবই কম খাওয়ার চেষ্টা করবেন। বিকেলের দিকে যদি নাস্তা করতে চান তাহলে পিনাট বাটার মাখন বা বাদাম জাতীয় জিনিস সামান্য পরিমাণে খেতে পারেন। 

আর রাতের খাবারটা চেষ্টা করবেন সাতটা আটটার মধ্যে শেষ করতে সামান্য কিছু খাবার শাকসবজি খেতে পারেন, এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল এর বিপরীতে আপনি নারিকেলের তেল খেতে পারেন সেটা শরীরের জন্য ভালো। 

এ ধরনের খাবার গুলোর মধ্যে হেলদি ফ্যাট রয়েছে যেগুলো শরীরের জন্য উপকারী। চেষ্টা করুন বাইরের ফুড গ্রহণ না করার।

ব্যায়াম না করে ওজন কমানোর উপায়-বিস্তারিত জেনে নিন

ব্যায়াম না করে ওজন কিভাবে কমানো যায় এ ব্যাপারে অনেকেরই জানার ইচ্ছা থাকে। এটা ঠিক যে ব্যায়াম না করে ওজন কমানো সম্ভব ডায়েট করে ওজন কমানো যায় তবে এর পাশাপাশি ব্যায়াম করার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারলে শরীরের স্ট্রেন্থ বাড়বে, শরীরের মধ্যে এনার্জি থাকবে, ক্লান্তি ভাব কম আসবে, স্ট্রেস নেয়ার ক্ষমতা বাড়বে। 

তাই আপনি যদি ডায়েটমেন্ট এর পাশাপাশি নিয়মিত এক্সারসাইজ করেন তাহলে আপনার শরীরটা হবে বলিষ্ঠ শক্তিশালী এবং আপনাকে সুঠামদের অধিকারী করে তুলবে। তাই সুন্দর পরিচ্ছন্ন একটি স্বাস্থ্য পেতে চাইলে, আপনাকে সুন্দর লাইফ স্টাইল মেনটেনের পাশাপাশি ব্যায়াম করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

পরিশেষে

প্রিয় বন্ধুগণ আপনারা যারা এয়ারটেল টি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মনোযোগ দিয়ে পড়েছেন আশা করি উক্ত বিষয় সম্পর্কে আপনারা জানতে পেরেছেন পাশাপাশি উপকৃত হয়েছেন। এ ধরনের নেমে থার্টিকেল সম্পর্কে জানতে আমাদের ওয়েবসাইটটি ভিজিট করতে থাকুন। 

সবশেষে আপনার এবং আপনার পরিবারের সুস্থতা কামনা করে আজকের মত এখানেই শেষ করছি।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url