চা পাতার উপকারিতা এবং ত্বক ও চুলের যত্নে চা পাতার ব্যবহার | Rahul IT BD

চা পাতার উপকারিতা এবং ত্বক ও চুলের যত্নে চা পাতার ব্যবহার

প্রিয় গ্রাহক আপনি হয়তো চা পাতার উপকারিতা এবং চা পাতার গ্রেড চেনার উপায় সম্পর্কে জানেন না। তাই আজকের এই আর্টিকেলটিতে এর উপকারিতা এবং গ্রেড চেনার উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করা হয়েছে। এই আর্টিকেলটি পড়লে আপনি সেই বিষয়ে জানতে পারবেন।
আপনি সে বিষয় সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হয়ে থাকলে আজকের আর্টিকেলটিতে আপনাকে স্বাগতম।

ভূমিকা

প্রিয় বন্ধুগণ আজকেরে আর্টিকেলটিতে চায়ের উপকারিতা সম্পর্কে আলোচনার পাশাপাশি গাছের গোড়ায় চা পাতা দিলে আসলেই লাভ আছে কিনা, যা করার পর পাতা ফেলে না দিয়ে কোন কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে, ত্বক ও চুলের যত্নে চা পাতার ব্যবহার, চা পাতার ব্যবসা করার জন্য কি কি লাইসেন্স প্রয়োজন। 

ভালো চা পাতা চেনার উপায়, অল্প পুঁজিতে চা পাতার ব্যবসা লাভজনক কিনা, চা পাতার গ্রেড চেনার উপায় সবচেয়ে ভালো সেই সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে। তাই প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত এই আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।

গাছের গোড়ায় চা-পাতা দিলে কি আসলেই লাভ আছে জেনে নেওয়া যাক

চা পাতা গাছের গোড়ায় দিলে আগাছা জন্মাতে বাধা দেয়। মাটির তাপমাত্রা ঠিক রাখতে সাহায্য করে এবং মাটির যাতে দ্রুত শুকিয়ে না যায় সে ক্ষেত্রে কার্যকরী ভূমিকা রাখে। চা পাতা গাছের জন্য ভালো বলে ইচ্ছামত ব্যবহার করা যাবে না কারণ আমরা দুধ চা খেতে পছন্দ করি। 


আবার কেউ লাল চা খেতে পছন্দ করে এজন্য গাছের গোড়ায় চা পাতা দেওয়ার আগে খেয়াল রাখতে হবে যে এই ব্যবহৃত চা পাতা দুধ চায়ের চা-পাতা কিনা কারণ গাছের গোড়ায় চিনি ও দুধ মেশানো চা পাতা বেশি ক্ষতি করতে পারে। গাছের গোড়ায় চা পাতা দিলে কি উপকার হয় তা নিম্নে তুলে ধরা হলোঃ
  • কীটপতঙ্গ গাছের একটি জাত শত্রুতে পরিণত হয়েছে তাই চা পাতা মেশানো পানি আমরা যদি আমাদের কাছে স্প্রে করি তাহলে কীটপতঙ্গের হাত থেকে রেহাই পাওয়া যাবে।
  • চা পাতা জমিনের তাপমাত্রা সঠিক রাখতে ভূমিকা রাখে পাশাপাশি আগাছা জন্মাতে বাধা প্রদান করে।
  • চা পাতা গাছের নাইট্রোজেন এর যোগান দেয়, গাছ বৃদ্ধির জন্য নাইট্রোজেন অত্যন্ত প্রয়োজনীয় উপাদান।
  • চা পাতার ব্যবহার এটি বিষমুক্ত একটি পরিবেশ বান্ধব পদ্ধতি।
  • চা পাতার মধ্যে রয়েছে ট্যানিক অ্যাসিড এটা পচতে শুরু করলে মাটিতে পুষ্টি উপাদান বাড়াতে সাহায্য করে।
  • জৈব সার হিসাবে চা পাতা নিঃসন্দেহে দারুন একটা উপাদান। আমরা সরাসরি গাছের গোড়ায় চা পাতা ঢেলে দেই আবার অনেকেই চাপাতাকে অনেকদিন রেখে জৈব সার বানিয়ে কাজে লাগায়।

চা করার পর পাতা ফেলে না দিয়ে ব্যবহার সম্পর্কে জেনে নিন

আচ্ছা অত্যন্ত প্রিয় একটি পানীয় খাবার কিন্তু চা তৈরি হওয়ার পর ব্যবহৃত চা পাতা ফেলে না দিয়ে কাজে লাগানো যেতে পারে।
  • ব্যবহৃত চায়ের পাতা জৈব সার হিসেবে ব্যবহার করা যায়
  • বাজে গন্ধ দূর করতে এয়ার ফ্রেশনার হিসেবে ব্যবহার করা যায়
  • চা পাতা মেশানো পানি দিয়ে গোসল করলে আপনার অনেক ফ্রেশ লাগবে
  • এতে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ে পাশাপাশি চুলের জন্য অনেক ভালো
  • ব্যবহৃত চা পাতা হেয়ার কন্ডিশনের হিসেবেও কাজ করে যেটাকে ন্যাচারাল কন্ডিশনার বলা যায়

চা পাতার উপকারিতা এবং ত্বক ও চুলের যত্নে চা পাতার ব্যবহার সম্পর্কে জেনে নিন

ভালো চা পান করলে স্বাস্থ্যের জন্য যেমন উপকারী তেমনি এইতো চা পাতা ত্বক ও চুলের যত্নে দারুন ভূমিকা রাখে কারণ এতে রয়েছে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট, অ্যান্টি এজিং যেটা ত্বকের জন্য ভালো।

চোখের ফোলা ভাব দূর করেঃ টি প্যাক বাজার থেকে কিনে এনে পানিতে ভিজিয়ে রেখে চোখের উপরে ১০ মিনিট ধরে রাখলে চোখের ফোলা ভাব দূর হয় পাশাপাশি চোখের কালো দাগ দূর করা সম্ভব।
চুল কালো রাখতেঃ চায়ের লিকার চুল কালো রাখতে এবং চুলকে স্বাস্থ্যকর সঠিক করতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। চুল পড়া রোধে চাপা চাপ পানিতে একটু ফুটে নিতে হবে তারপরে ঠান্ডা করতে হবে তারপরে সেটা চুলে বা মাথার তালুতে স্প্রে করতে হবে এতে চুল মজবুত এবং টেকসই হবে।


ত্বক পরিষ্কার ও মসৃণ করেঃ ত্বকের খসখসে ভাব শুষ্কতা দূর করতে চা পাতা বেশ উপকারী চায়ে এন্টিঅক্সিডেন্ট থাকে তাই ত্বক পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে পাশাপাশি নিয়মিত মুখে টি প্যাক ব্যবহার করলে দারুন উপকার পাওয়া যাবে এতে ত্বক মসৃণ হবে।

রোদে পোড়া দাগ দূর হবেঃ এক্ষেত্রে চা পাতা পানিতে ফুটাতে হবে তারপর ঠান্ডা করে একটা নরম কাপড় চুবিয়ে আধাঘন্টা মত রোদে পোড়া দাগের স্থানে রাখতে হবে এতে ভালো ফল পাওয়া যায়।

চা পাতার ব্যবসা করার জন্য কি কি লাইসেন্স প্রয়োজন

চা পাতার ব্যবসা করতে হলে আপনাকে কিছু লাইসেন্স নিয়ে শুরু করতে হবে। এখন আপনি যদি খোলা চা পাতা এবং প্যাকেট চা পাতা ব্যবসা করতে চাইলে যেসব লাইসেন্স লাগবে তা নিম্নরূপঃ
  • খুচরা ও পাইকারি লাইসেন্স লাগবে
  • ট্রেড লাইসেন্স
  • ব্লেন্ডার লাইসেন্স লাগবে
  • বিডার লাইসেন্স লাগবে
  • ভ্যাট ট্যাক্স সনদ লাইসেন্স
  • আবেদন করতে হবে ট্রেডমার্ক অফিসে তাহলে আপনি নিলাম করতে পারবেন।

ভালো চা পাতা চেনার উপায় জেনে নেওয়া যাক

চা আমাদের কাছে ভীষণ প্রিয়। প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে খবরের কাগজ পড়ার পাশাপাশি আমরা চা খেতে অভ্যস্ত কিন্তু যে চা টা আমরা খাচ্ছি সেটা পুষ্টিগুণ আছে কিনা সেটা আমরা জানি না কারণ চা পাতায় অনেক ধরনের ভেজাল মেশানো হয়। ভেজাল চা পাতা চেনার উপায়ঃ
  • একটি ফিল্টার পেপারে অল্প পরিমাণ চা পাতা সরিয়ে দিতে হবে
  • তারপর অল্প পরিমাণ পানি ছিটিয়ে দিতে হবে
  • এবার ফিল্টার পেপারটিকে ভালো করে ধুতে হবে
  • ভেজা ফিল্টার কাগজটিকে আলুর সামনে ধরে পেপারের দাগগুলো ভালো করে পর্যবেক্ষণ করতে হবে
  • ভেজাল চা পাতা হলে পেপারের বাদামী রং দেখা যাবে, আর যদি ভেজালহীন হয় তাহলে ফিল্টার কাগজে কোন দাগ দেখা যাবে না।
  • এক কাপ ঠান্ডা পানিতে এক চিমটি চা পাতা দিয়ে এক মিনিট রেখে দিতে হবে। কিছুক্ষণের মধ্যে পানিতে রং দেখা গেলে বুঝতে হবে চায়ের পাতায় ভেজাল আছে কারণ চা পাতাকে অনেক ডিগ্রী তাপমাত্রায় শুকানো হয় তাই চায়ের রং বের করতে হলে তার থেকে বেশি তাপমাত্রা প্রয়োজন হয় তাই যদি ঠান্ডা পানিতে রেখে রং বের হয় তাহলে বুঝতে হবে ভেজাল আছে।
  • আরেকটি চেনার উপায় হল এক চিমটি চা পাতা হাতের তালুতে রেখে এক দুই মিনিট ঘষা দিলে হাতে কোন রং দেখা গেলে বোঝা যাবে যে ভেজাল মেশানো হয়েছে।

চা কত প্রকার কি কি বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক

চা কত প্রকার এ কথা বলে শেষ করা যাবে না আজকাল দেখা যায় ফুটপাতে হরেক রকমের চা বানিয়ে খাওয়ানো হচ্ছে যেমন মাল্টা চা, কমলা চা, মরিচ চা, বেল চা, জবা ফুলের চা, শিউলি পাতার চা, গোলাপ ফুলের চা এমন হরেক রকমের চা বানিয়ে খাওয়ানো হচ্ছে। 

এ সমস্ত চা পাঁচ টাকা থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত দাম হয়ে থাকে এরপর নানা রকম মসলা পাতি দিয়েও চা বানানো হয়।

অল্প পুঁজিতে চা পাতার ব্যবসা লাভজনক কিনা জানতে পড়ুন

স্বল্প পুঁজিতে ব্যবসা করার জন্য চা পাতার ব্যবসা একটি ভালো আইডিয়া হতে পারে। এ ব্যবসাটি স্বল্প পুঁজিতে করা যায় মনে করেন যে আপনার কাছে 30 হাজার টাকা রয়েছে, এই টাকা দিয়ে দুই তিন বস্তা চা পাতা কিনে নিজে ভালোমতো ব্লেন্ড করে প্যাকেট করে বাজারে বিক্রি করে মুনাফা করতে পারেন।

 আবার এভাবে না করে আপনি যদি কোন চা পাতার প্যাকেট প্রস্তুতকারকের কাছ থেকে প্যাকেট সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রি করেও মুনাফা অর্জন করতে পারেন। স্বল্প পুঁজিতে যত ধরনের ব্যবসা রয়েছে আমাদের দেশে তার মধ্যে চা পাতার ব্যবসা অন্যতম হতে পারে।

চা পাতার গ্রেড চেনার উপায় এবং কোন গ্রেডের চা পাতা সবচেয়ে ভালো

চা পাতা যদি ভাল হয় তাহলে সেই চা খেতেও ভালো হয়। ভালো মানের চায়ের রং হয় উজ্জ্বল এবং ঝকঝকে। আর সুগন্ধি যাচাই করতে হলে হাতের তালুতে একটু চা পাতা নিয়ে ভালো করে ঘষা দিয়ে নাকে গন্ধ নিলে বোঝা যায় যে ফ্লেভারটি ভালো না খারাপ। 

অবশ্যই ভালো চায়ের ভালো ফ্লেভার থাকবে এটাই তো স্বাভাবিক। আপনাকে চায়ের স্বাদ অনুযায়ী চা পাতার গ্রেড বের করতে হবে তার মানে চা পাতা দেখে গ্রেড চেনার উপায় এটা ভুল কথা।
  • GFOP- GOLDEN FLOWERY ORANGE PEKOE
  • FOP- FLOWERY ORANGE PEKOE
  • GBOP- GOLDEN BROKEN ORANGE PEKOE
  • FBOP- FLOWERY BROKEN ORANGE PEKOE
  • BOP- BROKEN ORANGE PEKOE
  • GOF- GOKDEN ORANGE FANNINGS
  • FOF- FLOWERY ORANGE PEKOE FANNINGS
  • GD- GOLDEN DUST
  • FD- FINE DUST

শেষ কথা

প্রিয় পাঠক আপনি যদি প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত এই আর্টিকেলটি পড়ে থাকেন তাহলে নিশ্চয়ই চায়ের উপকারিতা এবং চা পাতার গ্রেড চেনার উপায় বা কোন গ্রেডের চা পাতা সবচেয়ে ভালো সেই সম্পর্কে জানতে পেরেছেন।  আমি আশা করি এই আর্টিকেলটি পড়ে আপনি উপকৃত হয়েছেন। 

এ ধরনের নিয়মিত আর্টিকেল সম্পর্কে জানতে আমাদের ওয়েবসাইট ভিজিট করতে থাকুন। সবশেষে আপনার এবং আপনার পরিবারের সকলের সুস্থতা কামনা করে আজকের মত এখানেই শেষ করছি।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url