দ্রুত হাই প্রেসার কমানোর উপায় | Rahul IT BD

দ্রুত হাই প্রেসার কমানোর উপায়

প্রিয় পাঠক আপনি কি দ্রুত হাই প্রেসার কমানোর উপায়, হঠাৎ হাই প্রেসার কমানোর ঘরোয়া উপায়, হাইপ্রেসার হলে কি খাওয়া উচিত না এসব সম্পর্কে জানতে চান? তাহলে আপনি একদম সঠিক জায়গাতে ক্লিক করেছেন। কারণ এই সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে।
দ্রুত হাই প্রেসার কমানোর উপায়
তাই আপনি যদি হাই প্রেসার বেড়ে গেলে কি করা উচিত সে সম্পর্কে না জেনে থাকেন তাহলে এই পোস্টটি আপনার জন্য। তাই আর দেরি না করে আপনার সমস্যার সমাধান পেতে এই পোস্টটি শেষ পর্যন্ত মনোযোগ দিয়ে পড়তে থাকুন। আশা করি আপনি উপকৃত হবেন।

ভূমিকাঃ দ্রুত হাই প্রেসার কমানোর উপায়

প্রিয় বন্ধুগণ আমাদের দেশের বিভিন্ন বয়সের নারী এবং পুরুষের মধ্যে হাই প্রেসার জনিত সমস্যা দেখা যায় ব্যাপকভাবে। এগুলো হওয়ার পেছনে যে সমস্ত কারণ রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে আমাদের খাদ্যাভ্যাস। অর্থাৎ আমরা অসচেতনতার কারণে বিভিন্ন ধরনের খাবার আমরা গ্রহণ করে থাকি।

আমাদের শরীরের জন্য মোটেও ভালো নয়। যার কারণে আমাদের শরীরে বিভিন্ন ধরনের রোগ দেখা যায় এর পাশাপাশি হাই প্রেসার বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও থেকে যায়। আমরা অনেকেই জানিনা হাই প্রেসার বেড়ে গেলে কি করা উচিত সে সম্পর্কে আমরা অনেকটাই অজানা। 

তাই এই পোস্টটির মাধ্যমে আপনারা উপকৃত হবেন বলে আমি বিশ্বাস করি। কারণ এই পোস্টটিতে হাই প্রেসারের বিষয় নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। জানতে হলে পড়তে থাকুন।

দ্রুত হাই প্রেসার কমানোর কার্যকর উপায় জানুন

১৭ মে, বিশ্ব উচ্চ রক্তচাপ দিবস। বিশ্বজুড়ে উচ্চ রক্তচাপ একটি নীরব ঘাতক হিসেবে পরিচিত। হাইপারটেনশন বা হাই প্রেসার কে বাংলায় উচ্চ রক্তচাপ বলা হয়। এটি একটি সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা।

এটি তখনই ঘটে যখন ধমনীতে রক্তের অত্যধিক চাপ করে। বর্তমান সময়ের কর্মব্যস্ততার পাশাপাশি অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভাস, ধূমপান, অ্যালকোহল পান এবং অতিরিক্ত মানসিক চাপের কারণে প্রতিনিয়ত উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন বা হাই ব্লাড প্রেসার এর রোগীর সংখ্যা বেড়ে চলেছে।

বাংলাদেশে এক চতুর্থাংশ মানুষ উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন। তবে পুরুষের চেয়ে নারীরা এই সমস্যায় বেশি ভুগে থাকেন। চিকিৎসা শাস্ত্রে, স্বাভাবিক রক্তচাপ হলো ১২০/৮০ মিলিমিটার পারদ চাপ। তবে রক্তচাপ যখন এর বেশি যেমন ১৪০/৯০ মিলিমিটার পারদ চাপের বেশি হয় তখন তাকে উচ্চ রক্তচাপ বলা হয়।


হাই প্রেসার বা উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের সবসময় সতর্ক থাকতে হয়, তা না হলে হঠাৎ প্রেসার বেড়ে স্ট্রোকের মত মারাত্মক সমস্যা হয়ে যেতে পারে। তাই প্রেসার বা উচ্চ রক্তচাপ বেড়ে গেলে তা কমানোর উপায় গুলি অনুসরণ করে। 

আপনার হাই প্রেসার অবিশ্বাস্যভাবে কমিয়ে আনা এবং আরো ভালো কার্ডিওভাসকুলার স্বাস্থ্যের উন্নতি করা সম্ভব। নিম্নে দ্রুত হাই প্রেসার কমানোর উপায় গুলো সম্পর্কে আলোচনা করা হলো:
  •  হঠাৎ রক্তচাপ বেড়ে গেলে শারীরিক চলাচল কমিয়ে দিন। কেননা এতে রক্তের চাপ আরো বেড়ে যায়।
  • রক্তের চাপ কমাতে খেতে পারেন তেতুলের রস। তেতুলের রসের পরিবর্তে আপনি লেবু ও পানিও খেতে পারেন।
  • এ সময় চিনি, তেল, ঘি ,মাখন একেবারে খাওয়া যাবেনা।
  • আপনার খাদ্য তালিকায় আদা রাখুন। আদা কে বলা হয় সুপার ফুড এটি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক সহায়তা করে।
  • হাই প্রেসার বেড়ে গেলে প্রক্রিয়াজাত ও তৈলাক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন। সেই সাথে চর্বিযুক্ত খাবার, খাবারে লবণ, ধূমপান ইত্যাদি উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ায় তাই এগুলো এড়িয়ে চলুন।
  • যখন দেখবেন প্রেসার বেড়ে গেছে তখন বিশ্রাম নেওয়ার চেষ্টা করবেন। মাথায় পানি বা বরফ দিলে সাময়িক উপশম হবে তবে পরবর্তীতে অবশ্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
  • হঠাৎ প্রেসার বেড়ে গেলে পর্যাপ্ত পানি পান করুন এবং এতে আপনার হার্ট ও কিডনির ওপর রক্তের চাপ কমাতে সাহায্য করবে।
উপরোক্ত উপায়গুলোর মাধ্যমে দ্রুত হাই প্রেসার কমানো সম্ভব। তবে এটি মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ যে এগুলো স্থায়ী সমাধান নাও হতে পারে। একটি সুষম খাদ্যাভাস, নিয়মিত ব্যায়াম এবং স্ট্রেস মুক্ত থাকা ও স্বাস্থ্যকর জীবনধারা বজায় রাখা দীর্ঘ মেয়াদে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। 

তবে হাই প্রেসার যদি কমানো সম্ভব না হয় তাহলে দ্রুত ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করা উচিত।

হঠাৎ হাই প্রেসার কমানোর ঘরোয়া উপায়

বাংলাদেশে বিপুল সংখ্যক মানুষ উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন। এসব রোগীরা যেকোনো সময় প্রেসার বেড়ে যাওয়ার সমস্যায় ভোগেন। জটিল এ পরিস্থিতিতে দ্রুত হাইপ্রেসার কমানোর জন্য কিছু ঘরোয়া উপায় রয়েছে তা সকলেরই জেনে থাকা উচিত। 

হাইপার টেনশন বা হাই প্রেসার কে বাংলা উচ্চ রক্তচাপ বলা হয় ।এটি একটি সাধারণ সমস্যা। ধমনীতে রক্তের অত্যাধিক চাপ পড়লে রক্তে প্রেসার বেড়ে যায়। আর প্রেসার বেড়ে গেলে স্ট্রোকের মতো মারাত্মক সমস্যা তৈরি হতে পারে। 

আমাদের আজকের হাই প্রেসার কমানোর ঘরোয়া উপায় নিম্নে সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।

* রসুন: রসুন হাই প্রেসার কমাতে সাহায্য করে। হঠাৎ করে হাইপ্রেশার বেড়ে গেলে রসুন খেলে তার সাথে সাথে অনেকটাই কমে যায়। ১ থেকে ২ টুকরার রসুন নিয়ে সরাসরি খেয়ে নিন বা কুচি কুচি করে কেটে মধুর সাথে মিশিয়ে খেয়ে নিন দেখবেন হাইপ্রেসার দ্রুত কমে যাচ্ছে।

* আদা: হাই প্রেসার কমানোর জন্য আদা খুবই উপকারী। আদা হৃদপিন্ডের সংকোচনের শক্তি এবং হার কমাতে সাহায্য করে। এক কাপ পানিতে কয়েক টুকরো আদা নিয়ে পাঁচ মিনিট সিদ্ধ করে নিন এরপর ঠান্ডা করে আদা চা পান করুন।

* লেবুর রস: নিয়মিত লেবুর রস পান করলে হাই ব্লাড প্রেসার কন্ট্রোলে থাকে। এক লাখ গরম পানিতে অর্ধেক লেবুর রস ভালো করে মিশিয়ে পান করলে হাই প্রেসার তাৎক্ষণিকভাবে নিয়ন্ত্রণে আসে।

* হলুদ: আপনার হাতের কাছে থাকা অন্যতম উপকারী মসলা হলেও হলুদ। হলুদের মধ্যে থাকে অনেকটা পরিমাণে কারকিউমিন। আর এই কারকিউমিন আপনার প্রেসার নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে্ তাই প্রেসার কমানোর জন্য আপনাকে অবশ্যই দুধের সঙ্গে মিশিয়ে খেতে হবে হলুদ।

* ভিটামিন বি এবং ডি: ভিটামিন বি এবং ভিটামিন ডি তে থাকা পুষ্টিগুণ প্রেসার এর ওপর প্রভাব ফেলে এর কারণে হাইপ্রেশার নিয়ন্ত্রণে থাকে। যে কারণে স্ট্রোক প্রতিরোধে সাহায্য করে। 

গোটা শস্য, ডিম, দুগ্ধজাত খাবার, মাংস, লেবু, সবুজ শাক-সবজি ইত্যাদি ভিটামিন যুক্ত খাবার নিয়মিত খাবার তালিকা রাখা উচিত।

* আপেল সিডার ভিনেগার: হাই ব্লাড প্রেসার কমাতে আপেল সিডার ভিনেগার কার্যকরী ভূমিকা রাখে। এটি শরীরে রেনিন নামক এক এনজাইম এর কার্যকলাপ পাস করতে সাহায্য করে যা উচ্চ রক্তচাপ তৈরি করে থাকে। 

এক গ্লাস গরম পানিতে তিন চা চামচ আপেল ভিনেগার নিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে পান করুন দেখবেন তাৎক্ষণিকভাবে হাইপ্রেশন নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে।

* গ্রিন টি: গ্রিন টি হাই প্রেসার কমাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। গ্রীন টি তে থাকা পলিফেনাল ধমনীকে শিথিল করতে সাহায্য করে যার ফলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে। নিয়মিত একবার বা দুইবার গ্রিন টি পান করা ভালো।

* পালং শাকে প্রচুর পটাশিয়াম থাকে, যার রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। তাছাড়া গাজর, টমেটো, ব্রোকৌলি রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। তাই এ সকল সবজি যাদের উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে তাদের খাদ্য তালিকায় প্রতিদিন রাখার চেষ্টা করতে হবে।

* নিয়মিত ব্যায়াম করা: প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০ মিনিট ব্যায়াম করুন, যেমন দ্রুত হাঁটা, সাঁতার বা সাইকেল চালানো। নিয়মিত ব্যায়াম আপনার রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করবে।

* দুশ্চিন্তা মুক্ত থাকুন: যোগ ব্যায়াম বা গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস এর মত শিথিল করনের কৌশল গুলি অনুশীলন করুন এবং চিন্তা মুক্ত থাকুন। তাহলে দেখবেন হাই প্রেসার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে।

* লবণ জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলুন: যাদের হাই প্রেসার রয়েছে তাদের প্রতিদিন পাঁচ গ্রামের বেশি লবণ বা নুন খাওয়া চলবে না। 

অনেক সময় আমরা বুঝতে পারি না যে কারণে বাইরে জাঙ্ক ফুট বা বিস্কুট ও চানাচুরে থাকা লবণ বেশি পরিমাণে খেয়ে থাকি। তাই যে কোন খাবার বাইরে খাওয়ার আগে ভেবে চিন্তে খেতে হবে।

হাই প্রেসার হলে কি খাওয়া উচিত না জেনে নিন

মানুষের স্বাভাবিক রক্তচাপের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার প্রবণতাকে উচ্চ রক্তচাপ বা হাই ব্লাড প্রেসার বলা হয়। যেকোনো বয়সের মানুষের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপের প্রবণতা দেখা যায়। 

সাধারণত অতিরিক্ত ওজন, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, সঠিক খাদ্যাভাসের অভাবে অনেকে খুব কম বয়সে এই হাই ব্লাড প্রেসার রোগে আক্রান্ত হন।

হাই প্রেসার হলে খাবারের নিয়ন্ত্রণ খুবই জরুরী। হাই প্রেসারে আক্রান্ত রোগীর উচিত রক্তচাপ বাড়ায় এমন খাবার পরিহার করে সঠিক খাবার খাওয়ার মাধ্যমে তার রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা। তাহলে আসুন জেনে নেয়া যাক হাই প্রেসার হলে যা খাওয়া উচিত নয়।

১. লবণ: লবণ হাই প্রেসার ও হৃদরোগে আক্রান্ত মানুষের জন্য খুবই খারাপ। কারণ শরীরে মাত্রাতিরিক্ত সোডিয়াম জমা হলে হাই প্রেসার দেখা দেয় না। খাবারে লবণের পরিমাণ কমাতে হবে। কাঁচা লবণ একেবারে খাওয়া যাবেনা এমনকি রান্না করা খাবারেও লবণের পরিমাণ কমাতে হবে।

২. চিনি: অতিরিক্ত চিনি বা মিষ্টি জাতীয় খাবার আমাদের শরীরের জন্য খুবই ক্ষতিকর। কারণে খাবারগুলি আমাদের শরীরে মেয়ের জামাতের সাহায্য করে যার ফলে ওজন বৃদ্ধি পায়। আর অতিরিক্ত ওজন হাই প্রেসার এর মত রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়। 

তাই চিনি বা মিষ্টি জাতীয় খাবার একেবারে খাওয়া বন্ধ করতে হবে। মিষ্টি কিছু যদি খেতে ইচ্ছে করে তাহলে চিনির বদলে সামান্য মধু খেতে পারেন।

৩. মুরগির চামড়া বা ডিমের কুসুম: হাই প্রেসারের রোগীরা মুরগির চামড়া বা ডিমের কুসুম খেলে রক্তের চাপ বৃদ্ধি পায় সেইসাথে বেড়ে যায় হৃদরোগের ঝুঁকি। তাছাড়া মুরগির চামড়ায় উচ্চমাত্রার চর্বি থাকে যা মানুষের শরীরের কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি করে এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়।

৪. রেড মিট বা লাল মাংস: হাই প্রেসারের সমস্যায় যারা আছেন তারা গরুর মাংস, খাসির মাংস এবং মহিষের মাংস একেবারেই খাওয়া বন্ধ করুন। কারন এইসব লাল মাংসের খারাপ কোলেস্টেরলের পরিমাণ বেশি থাকে বহু গুনে বাড়িয়ে দেয়।

৫. অ্যালকোহল এবং কোমল পানীয়: অ্যালকোহল জাতীয় খাবার খেলে হাই প্রেসার দ্রুত বৃদ্ধি পায়। এ জাতীয় খাবারের প্রচুর ক্যালরি আছে যা ওজন বৃদ্ধি করে। তাই অ্যালকোহলযুক্ত পানিও কিংবা কোমল পানীয় না খেয়ে তাজা ফলের রস কিংবা লেবু শরবত খেতে পারেন।

৬. দুগ্ধজাত খাবার থেকে দূরে থাকুন: ননীসহ বা ফ্যাট যুক্ত দুধ খাবেন না। দুধ ও দুগ্ধ যা সামগ্রীর মধ্যে ননী বিহীন দুধ, টক দই খাওয়ার চেষ্টা করবেন।

৭. আচার এবং সস জাতীয় খাবার: যারা হাই প্রেসারের সমস্যায় ভুগছেন তাদের আচার এবং জাতীয় খাবার একেবারে খাওয়া উচিত নয়। কারণ আচার বা সসে লবণ, চিনি এবং তেল জাতীয় জিনিস বেশি থাকে যা প্রেসারের রোগীদের শরীরের পক্ষে একেবারেই ভালো নয়।

৮. ফাস্টফুড এবং বেকারি খাবার: প্যাকেট জাত এবং প্রসেস ফুড গুলির মধ্যে সবচেয়ে বেশি হাই প্রেসার সৃষ্টিকারক উপাদান থাকে। এই ফাস্টফুড এবং বেকারে খাবারে প্রচুর পরিমাণে সোডিয়াম, প্রিজারভেটিভ, বিষাক্ত রং এবং ক্ষতিকারক চর্বি ডালডা ব্যবহার করা হয়। 

এসব উপাদানগুলি উচ্চ রক্তচাপের রোগের জন্য ভীষণ ক্ষতিকারক। তাছাড়া তেলেভাজা অধিক চর্বিযুক্ত মুখরোচক খাবার থেকে বিরত থাকতে হবে।

৯. সাদা রংয়ের খাবার গুলো পরিহার করতে হবে: সাদা রঙের খাবার মানে সাদা ভাত, চিনি, সাদা আটার রুটি ইত্যাদি পরিহার করতে হবে। ভাত খাওয়ার পরিমাণ কমাতে হবে। কারণ এই সকল খাবার থেকে হাই প্রেসার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

কি কি খাবার খেলে প্রেসার বাড়ে জানুন

লবণ- প্রেসারের সমস্যা থাকলে লবণ খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। লবণে রয়েছে উচ্চমাত্রায় সোডিয়াম যা প্রেসার বাড়াতে সাহায্য করে। তাই যাদের হাইপ্রেসার রয়েছে তারা লবণ খাওয়া বাদ দিন। বাড়তি লবণ দিয়ে খাবার খাওয়ার অভ্যাস যাতে রয়েছে তারাও সেটা দূর করুন।

অ্যালকোহল বা কোমল পানীয়: অ্যালকোহল জাতীয় খাবার খেলে হাই প্রেসার বৃদ্ধি পায়। তাছাড়া দ্রুত ওজন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে কোমল পানীয় কাজ করে। আর ওজন বৃদ্ধির কারণে প্রেসার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে তাই অ্যালকোহল ও কোমল পানীয় পান করা থেকে বিরত থাকুন।

ফাস্টফুড এবং বেকারি খাবার: ফাস্টফুড এবং বেকারি খাবারে প্রচুর পরিমাণে সোডিয়াম, প্রিজারভেটিভ, ক্ষতিকারক রং, এবং চর্বি ডালডা ব্যবহার করা হয় যেগুলো হাই প্রেসার রোগীদের জন্য ভীষণ ক্ষতিকারক।

রেড মিট বা লাল মাংস: গরুর মাংস, খাসির মাংস এবং মহিষের মাংস একেবারে বর্জন করা উচিত যারা উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় আছেন। এসব লালমাংশে খারাপ কোলেস্টেরনের পরিমাণ বেশি থাকে যার হৃদ রোগ এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

মুরগির চামড়া এবং ডিমের কুসুম: মুরগির চামড়া এবং ডিমের কুসুম খেলে রক্তচাপ বৃদ্ধি পায় সেইসাথে বেড়ে যায় হৃদরোগের ঢুকিও। তাছাড়া মুরগির চামড়ায় উচ্চমাত্রার চর্বি থাকে যা মানুষের শরীরের কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি করে এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়।

আচার এবং সস জাতীয় খাবার: আচার এবং সস জাতীয় খাবার একেবারে খাওয়া উচিত নয়। কারণ এতে রয়েছে চিনি, লবণ এবং প্রচুর পরিমাণে তেল যা হাই প্রেসার রোগীদের শরীরের পক্ষে একেবারেই ভালো নয়।

কি কি ফল খেলে প্রেসার বাড়ে সে সম্পর্কে জানুন

প্রেসার নিয়ন্ত্রণে রাখা মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের বিষয়। মানুষের জীবন আচরণ স্বাভাবিক থাকলে তার প্রেসারও নিয়ন্ত্রণে থাকে। সঠিক খাদ্যাভ্যাস, দৈনন্দিন জীবনের একটু পরিবর্তন আপনাকে সুস্থ রাখতে অনেকটাই সাহায্য করবে। 

যে সকল খাবার বা ফল খেলে প্রেসার বাড়ে সে সকল ফল খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। যাদের হাইপ্রেশার রয়েছে তাদের খাবারের ব্যাপারে একটু সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

মিষ্টি ফল গুলোর মধ্যে রয়েছে পাকা আম, পাকা কলা, পাকা পেঁপে অর্থাৎ মিষ্টির পরিমাণ বেশি, বা সুগারের পরিমাণ বেশি সেই ফলগুলো যদি আপনি খান তাহলে অল্প কিছুক্ষণ সময়ের মধ্যে আপনার সুগার বা প্রেসার বেড়ে যাবে।

তবে সব সময় টাটকা ফল, ভিটামিন সি জাতীয় ফল কামরাঙ্গা, পেয়ারা ইত্যাদি ফলগুলো খেলে প্রেসার নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

প্রেসার বৃদ্ধি পাওয়ার মধ্যে সব অন্যতম তালিকা রয়েছে সুপ, কফি, ফলের রস, দুধ, শরবত, চর্বি জাতীয় খাদ্য যেগুলো খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। টক জাতীয় খাবার খাওয়ার ফলে প্রেসার বৃদ্ধি পায় কারণ এগুলোর মধ্যে রয়েছে ভিটামিন সি। 

এছাড়া পটাশিয়াম ম্যাগনেসিয়াম থাকে যার সোডিয়ামের কার্যকারিতা ঠিক থাকে। আর সোডিয়াম এর কারণে প্রেসার বৃদ্ধি পায়।

লেবু, মাল্টা, কমলা জাতীয় ফল প্রতিদিন খাদ্য তালিকা রাখতে হবে যাদের লো প্রেসার রয়েছে আবার যাদের হাই প্রেসার রয়েছে তারা এ খাবারগুলো কম খাওয়াই ভালো। টক জাতীয় ফল খেলে প্রেসার বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

পরিশেষে

প্রিয় বন্ধুগণ আপনারা যারা এই আর্টিকেলটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মনোযোগ দিয়ে পড়েছেন আমি আশা করি আপনারা এই সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছেন পাশাপাশি আপনার উপকৃত হয়েছেন। এ ধরনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানতে আমাদের ওয়েবসাইট দিয়ে ভিজিট করতে থাকুন।

আবার দেখা হবে নতুন কোন আর্টিকেলে সে পর্যন্ত আমাদের সঙ্গেই থাকুন। সবশেষে আমি আপনার এবং আপনার পরিবারের সকলের সুস্বাস্থ্যতা কামনা করে আজকের মত এখানেই শেষ করছি ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url