চুলে মেহেদি পাতা লাগানোর নিয়ম জেনে নিন | Rahul IT BD

চুলে মেহেদি পাতা লাগানোর নিয়ম জেনে নিন

প্রিয় পাঠক আপনি কি চুলে মেহেদী পাতা লাগানোর নিয়ম, মেদে পাতার উপকারিতা, চুলের মেহেদী পাতা দেয়ার উপকারিতা এবং কালো ছেলে মেয়েদের পাতা দিলে কি হয় সে সম্পর্কে জানতে চান? তাহলে আপনি একেবারে সঠিক জায়গাতে নক করেছেন। 
চুলে মেহেদি পাতা লাগানোর নিয়ম
আপনি যদি এই সম্পর্কে না জেনে থাকেন তাহলে এই পোস্টটি আপনি সম্পূর্ণভাবে পড়তে থাকেন এ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পেয়ে যাবেন। আশা করি এই পোস্টটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মনোযোগ দিয়ে পড়লে আপনি উপকৃত হবেন আর কথা না বাড়িয়ে উক্ত বিষয় সম্পর্কে জেনে নিন।

ভূমিকা

চুলে কালার করতে অনেকেই পছন্দ করে, কেউ প্রয়োজনে করে আবার কেউ প্রয়োজন ছাড়ায় সখে করে। অল্প বয়সে অনেকেরই চুল সাদা হয়ে যায় তাই অনেকেই মেহেদী পাতা চুলে ব্যবহার করে থাকে। চুলের ঘনত্ব বৃদ্ধি এবং চুল পড়া থেকে রক্ষা করার ক্ষেত্রে জুড়ি নেই। 

মেহেদী পাতা ব্যবহারের ফলে আমাদের চুল অনেক মজবুত হয় শক্ত হয় চুলের দক্ষতা দূর হয় চুল পড়া বন্ধ হয়ে যায় বা অনেক কমে যায় চুল ঝলমলে ঝরঝরে ভাই এবং যাদের মাথায় চুল কম তারা নিয়মিত ব্যবহারের ফলে নতুন চুল গজানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়। 

এই পোস্টটিতে মেহেদি পাতার পুষ্টিগুণ এবং ব্যবহারের নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে।

চুলে মেহেদি পাতা লাগানোর নিয়ম জেনে নিন

চুলকে সুন্দর রাখতে মেহেদি পাতা ব্যবহার করলে চুল স্বাস্থ্যজ্জ্বল এবং ঘন হয়। স্বাস্থ্যকর চুল পাওয়ার জন্য মেহেদী পাতার ব্যবহার অত্যন্ত জরুরী। কিন্তু অনেকেই চুলে মেহেদী পাতা লাগানোর নিয়ম সম্পর্কে ভালো জানে না। 

এক কাপ পরিমাণ মেহেদী পাতা ভালো করে বেটে এক টেবিল চামচ পরিমাণ নারিকেল তেল দুই থেকে তিন চামচ টক দই মিশিয়ে তুলে লাগে কমপক্ষে এক ঘন্টা রাখতে হবে ভালো করে শুকিয়ে গেলে পরিষ্কার পানি দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। 

পরের দিনকে শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধরে ফেলতে হবে আবার করতে পারে তাহলে আপনার চুল অনেক ঘন কালো এবং ঝলমলে হয়ে যাবে।

চুলের রুক্ষতা দূর করতে মেয়েদের পাতার ব্যবহার অনেক যুগ আগে থেকেই হয়ে আসছে এক্ষেত্রে আপনাকে এক কাপ মেরে পাতা ভালো করে বেটে নিয়ে দুই থেকে তিন চামচ অলিভ অয়েল তেল অথবা নারিকেল তেল ব্যবহার করতে পারেন। 

এর সাথে একটি ভিটামিন ই ট্যাবলেট ভালো করে মিক্স করে নিয়ে এক ঘন্টা তুলে দিয়ে রাখতে হবে তারপরে শ্যাম্পু দিয়ে ফেলতে পারেন যদি করেন তাহলে চুলের দক্ষতা চুল ফাটা চুলের আগা ফাটা ইত্যাদি বন্ধ হয়ে যাবে।

আবার আপনি মেহেদী পাতা বাটার সাথে এক টেবিল চামচ টক দই এবং এটি ডিম ডিমের সমস্ত উপকরণগুলো ভালো করে এর সাথে মিশিয়ে পুরো মাথায় ভালোভাবে আগা থেকে গোড়া পর্যন্ত লাগেতে হবে। 

তারপর কমপক্ষে একঘন্টা বসে থাকুন তারপরে পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন এই পদ্ধতিতে আপনার চুল কন্ডিশনার এর মত কাজ করবে চুলকে নরম এবং সিল্কি করবে।

আমাদের অনেকেরই অল্প বয়সে চুল পেকে যায় বা চুল পড়তে শুরু করে চুল পড়া রোধের ক্ষেত্রে মেহেদি পাতা পেস্ট এর সাথে জবা ফুল বাটা লেবুর রস তারপরে নারিকেল তেল ইত্যাদি ভালো করে মিশিয়ে চুলে লাগিয়ে কমপক্ষে একঘন্টা ভালোভাবে বসে থাকুন। 

তারপরে শ্যাম্পু দিয়ে মাথা ধুয়ে ফেলুন এভাবে সপ্তাহের কমপক্ষে একবার দুইবার করলে দেখবেন যে আপনার চুল অল্প বয়সে পড়া বন্ধ হয়ে গেছে। এবং চুল পড়ার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে আপনি রক্ষা পাবেন।

আপনি যদি চুলের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করতে চান বা প্রাণবন্ত করতে চান তাহলে আপনাকে অবশ্যই এক কাপ মেহেদি পাতা ভালো করে বেটে এর সাথে এক চা চামচ মেথি পেস্ট করে দুই চামচ নারিকেল তেল দিয়ে ভালো করে মিক্স করে নিয়ে চুলের আগা থেকে গোরা পর্যন্ত ভালো করে মিশিয়ে নিতে হবে। 

তারপরে এক ঘন্টা কমপক্ষে মাথায় দিয়ে রাখুন তারপরে চুল ভালো করে পরিষ্কার পানি দিয়ে শ্যাম্পু করে ফেলতে পারেন। 

এতে আপনার চুল অনেক উজ্জ্বল ঝলমলে হবে কারণ মেথিতে রয়েছে প্রোটিন ভিটামিন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা চুল পড়া বন্ধ এবং নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে এবং চুলের ভেতর থেকে পুষ্টি যুগিয়ে চুলকে আরো উজ্জ্বল প্রাণবন্ত করে।

এক্ষেত্রে সর্বপ্রথম মেহেদি পাতার সংগ্রহ করতে হবে ভালো পরিষ্কার মেহেদী পাতা নিয়ে ডালপালা থেকে আলাদা করে ফেলতে হবে তারপরে আরেকটি উপাদান সাথে নিতে হবে সেটা হল মেথি, কারণ মেথি চুলের জন্য খুব ভালো কাজ করে থাকে। 

মেথিতে থাকা প্রোটিন, ভিটামিন এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকায় আমাদের চুল পড়া বন্ধ করে পাশাপাশি চুলকে মজবুত রাখতে সহায়তা করে। চুলের পরিমাণ অনুযায়ী মেহেদি পাতা এবং মেথি পরিমাণ মতো নিয়ে ব্লেন্ডারে সুন্দর করে পেস্ট করতে হবে। 


আর পেস্টটা যাতে খুব ভালো করে মিহি হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। পেস্ট যাতে ভালো হয় সে অনুযায়ী পানি ব্যবহার করতে হবে। চুলে ব্যবহার করার জন্য এই পেস্ট এখন সম্পূর্ণ রেডি। ব্যবহারের পূর্বে হ্যান্ড গ্লাভস ব্যবহার করতে হবে তা না হলে আপনার হাত কালার হয়ে যেতে পারে। 

এখন চুলে প্রত্যেকটি জায়গায় খুব ভালো করে লাগিয়ে নিতে হবে। তারপরে ৩০ মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। চুলেদেওয়ার পর মেহেদি পাতার পেস্ট শুকিয়ে গেলে ভালো করে মাথার চুল ধুয়ে ফেলতে হবে। এভাবে আপনি আপনার চুলে মেহেদী পাতা লাগাতে পারেন।

মেহেদি পাতার উপকারিতা-সম্পর্কে জেনে নিন

চুল যখন তার চাহিদা মত পুষ্টি উপাদান পায় না অর্থাৎ কম পায়, তখনই দেখা দেয় চুল পড়ার সমস্যা। অনেক সময় বাইরে থেকে চুলের গোড়া মজবুত দেখালেও আসলে চুলের গোড়া ভেতর থেকে অনেক নরম। এই সমস্যার সমাধানের উপায় হিসেবে আপনাকে অবশ্যই বাছাই করে নিতে হবে মেহেদী। 

চুল পড়ার সমস্যা দূর করার জন্য বাজারে যে সমস্ত পণ্য পাওয়া যায় সেগুলোতে মূলত কেমিক্যাল থাকে যা চুলের দীর্ঘস্থায়ী সমাধান দিতে পারে না, তারপরে এ সমস্ত প্রোডাক্ট রয়েছে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া যা চুলের ক্ষতির কারণ হতে পারে তাই ক্ষণস্থায়ী এই সমাধানের দিকে প্রভাবিত হওয়া উচিত নয়। 

সুতরাং দীর্ঘস্থায়ীভাবে চুল পড়া বন্ধ করতে এবং চুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করতে, চুলকে মজবুত করতে মেহেদি পাতা ব্যবহার খুব কার্যকরী। 

বাজার থেকে চুলে ব্যবহার করার জন্য যে কন্ডিশনার ব্যবহার করা হয় তা সাময়িক চুলকে নরম বা সিল্কি রাখলেও তা চুলের জন্য খুবই ক্ষতিকর কারণ এতে রয়েছে বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান। 


যা চুলের স্বাস্থ্য কে সঠিক ভাবে ধরে রাখে না চুল রুক্ষ হয়ে যেতে পারে। এক্ষেত্রে আপনি যদি যুগোপযোগী এবং পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া মুক্ত ব্যবস্থা চান সেক্ষেত্রে আপনাকে মেহেদী বেছে নিতে হবে। মেহেদী পাতাকে বলা হয় প্রাকৃতিক কন্ডিশনার। 

আবার অনেকেই চুলের খুশকি সমস্যায় ভুগে এক্ষেত্রে বাজার থেকে খুশকি দূর করার বিভিন্ন ধরনের শ্যাম্পু পাওয়া যায় যা আসলে তেমন কোন কাজে আসে না বরং এগুলো ব্যবহার করলে চুলের মারাত্মক ক্ষতি হয়। 

এক্ষেত্রে আপনাকে ভালো উপায় হিসেবে বা খুশকি দূর করার উপায় হিসেবে মেহেদী সবচাইতে বেশি কার্যকর এবং চুলের পুষ্টিগুণ ধরে রাখতে কার্যকরী ভূমিকা রাখে। তাই খুশকি প্রতিরোধে মেহেদির জুড়ি মেলা ভার।

চুলে মেহেদী পাতা দেওয়ার উপকারিতা-শতভাগ কার্যকারী

আমরা কর্মব্যস্ততার মধ্যে চুলের যত্ন নেওয়া বলতে শুধু শ্যাম্পু ইউজ করে থাকি। এর বাইরে তেমন কিছু করা হয় না। আবার অনেক সময় কন্ডিশনার ব্যবহার করি এগুলো চুলকে সাময়িকভাবে সুন্দর রাখে বা সুস্থ রাখে। 

কিন্তু আপনি যদি চুলের গোড়া মজবুত করতে চুলকে সুস্থ রাখতে দীর্ঘস্থায়ীভাবে চান তাহলে আপনাকে মেহেদী পাতা ব্যবহার করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। বর্তমান আবহাওয়া জনিত কারণে বা সূর্যের রশি থেকে চুলের বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা যায়। 

বিশেষজ্ঞদের মতে, তাই চুলকে সুস্থ সুন্দর ঝলমলে মজবুত এবং সিল্কি রাখতে সপ্তাহে কমপক্ষে একবার মেহেদী পাতা ব্যবহার করা উচিত।

কালো চুলে মেহেদী পাতা দিলে কি হয়-বিস্তারিত জেনে নিন

আপনি যদি চুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করতে চান তাহলে কাল চলেও কালার করতে পারবেন। আপনি প্রাকৃতিক উপায়ে ঘরে বসে চুলের সৌন্দর্য চাইলেই বাড়াতে পারেন। 

এক্ষেত্রে আপনাকে পয়সা খরচ করতে হবে না গাছের পাতা অর্থাৎ মেহেদী পাতা ব্যবহার করে কালো চুলের সুন্দর কালার করতে পারবেন।

একটি পাত্রে কিছু পানি নিয়ে হালকা গরম করতে দেবেন, গরম পানির মধ্যে কিছু লবঙ্গ দিয়ে দিতে হবে পাঁচ থেকে ছয়টি তারপরে তেজপাতা কুচি কুচি করে কেটে ফুটন্ত পানির ভিতর দিয়ে নাড়তে থাকুন। 

যতক্ষণ পর্যন্ত মসলার কালার না বের হবে অর্থাৎ পানির সাথে না মিশবে ততক্ষণ পর্যন্ত এটি জ্বালাতে থাকবেন। 

তারপরে চুলা বন্ধ করে গরম পানি নামিয়ে নিন। ভালো করে ছেঁকে নেওয়ার পরে পরিষ্কার পানির মধ্যে ব্লাক কফি পাউডার এর সাথে মিস করতে হবে এক্ষেত্রে পানি অবশ্যই গরম থাকতে হবে। 

এই মিক্সচার এর সাথে মেহেদী পাতার গুড়া মিশিয়ে ভালো করে পেস্ট তৈরি করে কালো চুলে লাগিয়ে দিলে চুলের কালার সুন্দর ব্রাউন হবে এবং ঝলমলে হবে।

মেহেদী পাতা গুড়া করার নিয়ম-যেভাবে করবেন

মেহেদি পাতা গুড়া করে এয়ারটাইট কন্টেনারে রাখলে ৬ থেকে ৭ মাস পর্যন্ত ব্যবহার করা যায়। প্রথমে মেহেদি পাতা গাছ থেকে সংগ্রহ করতে হবে তারপরে ডালপালা থেকে শুধু মাত্র পাতা বাছাই করে আলাদা একটি পাত্রে রাখতে হবে। 


এই পাতাগুলো দুই থেকে তিন দিন রোদে শুকোতে দিতে হবে। শুকানোর পরে হাতের আঙ্গুল দিয়ে চেক করে দেখতে হবে, যে পাউডার হওয়ার মতো অবস্থা তৈরি হয়েছে কিনা। এরপরে শুকনো পাতাগুলো বিলিন্ডারে ভালো করে পাউডার করতে হবে। 

পাউডার হওয়া শেষ হলে অপর একটি পাত্রে ছাকনি দিয়ে গুড়াগুলো বের করে নিতে হবে আর ছাকনির উপরে যে আঁশগুলো থাকবে সেগুলো যেন গুড়ার সাথে না মিশে যায়। 

এবার মেহেদি পাতার গুড়া ভালো একটি পাত্রে রেখে এয়ার টাইট করে দিতে হবে যাতে বাতাস না ঢুকতে পারে তাহলে অনেকদিন যাবত ব্যবহার করতে পারবেন।

পরিশেষে

প্রিয় বন্ধুগণ আপনারা যারা এই আর্টিকেলটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ভালো করে পড়েছেন তারা অবশ্যই মেহেদী পাতা ব্যবহারের নিয়ম এবং ব্যবহার করলে কি উপকার পাওয়া যায় সে সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। 

পাশাপাশি আমি আশা করি আপনারা অনেক উপকৃত হয়েছেন। এ ধরনের আর্টিকেল পেতে নিয়মিত আমাদের ওয়েবসাইটটি ভিজিট করতে থাকুন। ধন্যবাদ

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url