শিশুদের শুষ্ক কাশি ও ঠান্ডা লাগলে করণীয় বিষয়গুলো | Rahul IT BD

শিশুদের শুষ্ক কাশি ও ঠান্ডা লাগলে করণীয় বিষয়গুলো

প্রিয় পাঠক আপনি কি শিশুদের শুষ্ক কাশি ও ঠান্ডা লাগলে কি করনীয় এবং এর লক্ষণসমূহ সম্পর্কে জানতে চান? তাহলে আপনি একদম সঠিক জায়গাতে ক্লিক করেছেন কারণ এই পোস্টটিতে এই সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বিস্তারিত ব্যাপকভাবে আলোচনা করা হয়েছে।
শিশুদের শুষ্ক কাশি ও ঠান্ডা লাগলে করণীয়
তাই আর দেরি না করে উক্ত বিষয়ে সম্পর্কে জানতে এই পোস্টটি মনোযোগ দিয়ে পড়তে থাকুন। আপনারা যারা এ ধরনের সমস্যা নিয়ে ভুগছেন এবং যারা এই সমস্যার সমাধান পেতে যারা আগ্রহী তাদেরকে আজকের আর্টিকেলে স্বাগতম।

ভূমিকা

প্রিয় বন্ধুগণ আজকের আর্টিকেলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিয়ে আলোচনা করেছি আশা করছি, আর্টিকেলটি অনেক বেশি ইনফরমেটিভ হবে। মূলত বাচ্চাদের  শীতকালে এবং অন্যান্য সময় কিভাবে যত্ন নেওয়া উচিত সে বিষয়ের উপরে গুরুত্ব সহকারে আলোচনা করা হয়েছে। 

এ বিষয় সম্পর্কে জানতে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মন দিয়ে পড়ুন। আশা করি আপনি আপনার সমস্যার সমাধান খুঁজে পাবেন এই পোস্টটি থেকে।

শিশুদের শুষ্ক কাশি ও ঠান্ডা লাগলে করণীয় বিষয়গুলো জানুন

জ্বর কোন রোগ নয় জ্বর হচ্ছে রোগের লক্ষণ। শিশুদের যেসব ক্ষেত্রে জ্বর হয় বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ঠান্ডা জনিত কারণে জ্বরটা বেশি আসে। ঠান্ডা জনিত জ্বর বেশিরভাগ কারণেই ভাইরাসজনিত কারণে হয়ে থাকে। শিশুদের জ্বর আর বড়দের জ্বর এই দুজনের মধ্যে ডিফারেন্স রয়েছে কারণ শিশুদের জ্বর হলে হঠাৎ করে বেড়ে যায়। 

এক্ষেত্রে শিশুদের জ্বর খুব দ্রুত বেড়ে ১০২ থেকে ১০৪ ডিগ্রি হয়ে যায়। সেক্ষেত্রে বাবা মারা অনেক সময় ভয় পেয়ে যায় হঠাৎ করে জ্বর বেড়ে যাওয়ার কারণে। শিশুদের জ্বর হলে আমরা ডাক্তারের পরামর্শ নেয়ার জন্য, ডাক্তারের কাছে ছুটে যাই কিন্তু তার আগে বেশি কিছু ব্যবস্থা নিতে হবে গার্জিয়ানদেরকে। 

এক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের প্যারাসিটামল ওষুধ রয়েছে বিভিন্ন বয়স ভেদে বিভিন্ন পরিমাণ নির্ধারণ করে খাওয়াতে হবে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আমরা শিশুদের জ্বরের কারণে সিরাপ ব্যবহার করে থাকি যেমন- নাপা সিরাপ। এক্ষেত্রে ম্যাক্সিমাম ছয় ঘন্টা পর পর নাপা জাতীয় সিরাপ আমরা খাওয়াতে পারি। 

আবার জ্বর যদি হঠাৎ বেশি চলে আসে সে ক্ষেত্রে প্যারাসিটামল সাপোজিটার ব্যবহার করতে পারি।

হঠাৎ করে বাচ্চার জ্বর হলে সে ক্ষেত্রে প্রথম অবস্থায় আমরা মাথায় পানি ঢালতে পারি এবং শিশুর শরীরটা পানির থেকে একটি কাপড় ভিজিয়ে মুছে দিতে পারি। খেয়াল রাখতে হবে পানি যাতে খুব বেশি ঠান্ডা না হয় কারণ হালকা কুসুম কুসুম গরম পানি দিয়ে শরীর ভেজা কাপড় দিয়ে মুছে দিতে হবে। 

খেয়াল রাখতে হবে পানি ঢালার সময় কোনভাবেই যাতে সেই পানি কানের ভেতরে না চলে যায়। যখন জ্বর শিশুর ১০২° উপরে উঠে যাবে তখনই আমরা মেডিসিন খাওয়ানোর চেষ্টা করব তার আগে কিন্তু নয়। ওটা তার আগে আমরা কখনোই কোনো ওষুধ প্রয়োগ করবো না। 

সে ক্ষেত্রে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ খাওয়াতে হবে। আমরা অনেকে মনে করে সাধারণত জোর হলে নাপা প্যারাসিটামল এই ধরনের ওষুধ খাওয়ালে হবে কিন্তু আসলে ওভাবে খাওয়ানো উচিত নয়, ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে খাওয়ানো উচিত।

শিশুদের শুষ্ক কাশি ও ঠান্ডাজনিত রোগ আক্রান্তের কারণ

গরমের সময় শিশুরা সর্দি-কাশির শোন নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে। সর্দি কাশি একবার শুরু হলে সহজে সারতে চায় না। সর্দি কাশি থেকে অনেক সময় নিউমোনিয়া পর্যন্ত হয়ে যেতে পারে। সর্দি সমস্যা ওষুধ খাওয়ার পর সেরে গেলেও খুসখুসে কাশি সহজে কমতে চায় না।

এর জন্য শিশুরা বেশ ভুগে থাকে ও কষ্ট পায়। ক্রমাগত কাশি হতে থাকলে এটা একটা চিন্তার বিষয়। এর ফলে গলার সমস্যা হতে পারে আবার অতিরিক্ত কাশির হলে বাচ্চার রাতের ঘুমের সমস্যা হতে পারে।

বাচ্চাদের মধ্যে কাশি খুবই সাধারণ একটি বিষয়। এটি ফুসফুস থেকে উত্তেজক পদার্থ গুলি বের করে দেয়ার কার্যকর উপায়গুলির মধ্যে একটি। শ্বাসযন্ত্রের মাধ্যমে উত্তেজকগুলি প্রায়ই ফুসফুসে প্রবেশ করে এবং এ কারণে কিছু ক্ষেত্রে শুষ্ক কাশি হতে পারে।

শুষ্ক কাশির জন্য খসখস শব্দ হতে পারে এবং শিশুদের জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে। এ ধরনের কাশি ফুসফুস এবং শিশুদের গলায় জ্বালা করতে পারে।

শুকনো কাশি এক ধরনের কাশি যাতে স্লেষ্মা বা কফ থাকে না। যখন বাচ্চার কাশি হয় তখন সাধারণত উচ্চ শ্বাসপথের সংক্রমণ নাক এবং গলা এর সাথে যুক্ত যার ঠান্ডা বা ইনফ্লুয়েঞ্জার মত মেডিকেল অবস্থার কারণ হতে পারে।

বাচ্চা ঘুমাতে গেলে বা উষ্ণ ঘরে থাকাকালীন অবস্থাতে শুষ্ক কাশি খারাপ হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে শুষ্ক কাশির শ্বাসনালীর নিম্ন অংশের সংক্রমনের সাথে যুক্ত হতে পারে বা ব্রংকাইটিস বা নিউমোনিয়ার সৃষ্টি করতে পারে।

কখনো কখনো ভাইরাসজনিত কারণে সর্দি কাশি হয় আবার কখনো কখনো ব্যাকটেরিয়া জনিত কারণেও হয়। শিশুদের শুষ্ক কাশির বা ঠান্ডা জনিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার কিছু কারণ রয়েছে কারণগুলো নিচে উল্লেখ করা হলো:

সাধারণ ঠান্ডা লাগা: সাধারণত ঠান্ডা লাগা থেকে শিশুদের শুষ্ক কাশি হতে পারে। তবে শুষ্ক কাশি সাধারণত ঠান্ডা লাগার প্রথমে বোঝা যায় না এটি ঠান্ডা লাগা শেষ পর্যায়ে বোঝা যায়। ঠান্ডা লাগার প্রাথমিক পর্যায়ে আপনার শিশুর হালকা এবং ভেজা কাশি থাকতে পারে।

ঠান্ডা লাগার সময়টা যত গড়ায় কাশি শুষ্ক হয়ে যায় ঠান্ডা লাগে একটু ভাইরাল সংক্রমণ এবং এর জন্য আপনার শিশুর গলা খুসখুস করতে পারে। আপনার সন্তানের ঠান্ডা লাগে এবং কাশি প্রতিরোধ করতে ঘরোয়া টোটকা সব থেকে বেশি কার্যকর।

পরিবেশগত উত্তেজক: কখনো কখনো আপনার শিশুর পরিবেশগত উত্তেজকের কারণেও শুষ্ক কাশি বা ঠান্ডা লাগতে পারে। সংবেদনশীল শিশুদের ক্ষেত্রে বেশি পরিলক্ষিত হয় যাদের মধ্যে তীব্র রাসায়নিক গন্ধ, সিগারেটের ধোঁয়া, অত্যধিক শুষ্ক এবং গরম বায়ুতে খুব সহজে প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যায়।

আপনার সন্তানকে এ ধরনের পরিবেশগত পরিস্থিতি থেকে দূরে রাখুন। গরম হওয়ার কারণে আপনি আপনার শিশুর রুম একটি হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করতে পারেন।

ইনফ্লুয়েঞ্জা: অল্প বয়সী বাচ্চাদের এবং শিশুদের মধ্যে এই লক্ষণগুলি গুরুতর হতে পারে। ইনফ্লুয়েঞ্জা সাধারণত ঠান্ডা লাগার মত, শুষ্ক কাশি দিয়ে শুরু হয়। ইনফ্লুয়েঞ্জা গুরুতর হওয়ার সাথে সাথে আপনি কাশির সাথে স্লেষ্মা লক্ষ্য করবেন।

গ্যাস্ট্রোইসোফেগাল রিফ্লাক্স রোগ: গার্ড বা গ্যাস্ট্রোইফেগাল রিফ্লাক্স রোগ শিশুদের প্রভাবিত করতে পারে। গার্ড তখন হয় যখন আপনার সন্তানের পেটে সামগ্রী গুলি তাদের রাস্তা তৈরি করে ইসোফেগাসের মাধ্যমে।

এর ফলে বমি, জ্বালাভাব বা থুথু ফেলতে হতে পারে। এসিড আপনার শিশুর গলায় অস্বস্তি সৃষ্টি করতে পারে যার ফলে শুষ্ক কাশি হয়। এই অবস্থা নিরাময়ের জন্য অনেক ধরনের ওষুধ আছে তবে আপনার শিশুকে কোন ওষুধ দেবার আগে অবশ্যই ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে দেওয়া দরকার।

হুপিং কাশি: হুপিং কাশি আপনার শিশুর উপর প্রভাব ফেলতে পারে। ভূপেন কাশি একটি ছোঁয়াচে ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ। যা শিশুদের শাসনালীতে প্রভাবিত করে। আপনার শিশু যদি এই অবস্থায় ভোগে তাহলে আপনি শক্তিশালী এবং ক্রমাগত কাশি লক্ষ্য করবেন।

আপনার শিশু যখন আসবে তখন আপনি তার কাশি থেকে একটি শব্দ শুনতে পারেন। আসলে এটি অত্যন্ত শুষ্ক কাশির জন্য হয় এবং যার জন্য বাচ্চারা প্রবল বিষম খেতে পারে। আপনার শিশুর চোখে জল বা লালচে ভাব লক্ষ্য করতে পারেন এবং বাইরে বের হয়ে আসতে পারে।

এছাড়াও এলার্জিক রাইনিটিস বা কোন বাতাসে থাকা পদার্থ নিঃশ্বাসের সাথে প্রবেশ করলে যেটা সাধারণত সদ্যজাত ও শিশুদের মধ্যে দেখা যায়। নাক ডাকা এবং প্রতিরোধী স্লিপ অ্যাপনিয়া, ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া থেকেও শুষ্ক কাশি হতে পারে।

শিশুদের শুষ্ক কাশি ও ঠান্ডাজনিত রোগ আক্রান্তের লক্ষণ

শুকনো কাশির সাথে জড়িত লক্ষণ উপসর্গগুলো হল-
  • শ্বাসকষ্ট
  • জ্বর ও শরীর ঠান্ডা হয়ে যাওয়া
  • গলা ফুলে থাকা
  • রাতে ঘাম হওয়া
  • ওজন কমে যাওয়া
  • ব্যায়াম করতে না পারা
  • সহজে ক্লান্তি অনুভব করা
  • শ্বাস গ্রহণের সময় বুকে সাই সাই আওয়াজ করা
  • বুক জ্বালা
  • খাবার গিলতে অসুবিধা ইত্যাদি

শিশুদের শুষ্ক কাশি ঠান্ডাজনিত রোগে অ্যাডিনো ভাইরাস

মূলত শিশুরা এদো ভাইরাসে সংক্রমিত হয়। এই ভাইরাস পৃথিবী শুরু থেকে ছিল এখনো আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। কখন এর মাত্রা বাড়ে আবার কখনো কমে। এখন এই ভাইরাসের নতুন ভেরিয়ান্ট পাওয়ার কোন তথ্য আসেনি।

এই ভাইরাসে আক্রমণিত হলে তার সারতে প্রচুর সময় লাগে। দীর্ঘমেয়াদি কাশি এবং অনেকদিন ধরে শ্বাসকষ্ট হয়। যখনই কাশি কমে না বা কাশির সঙ্গে শ্বাসকষ্ট থাকে ওষুধ দিলে সাধারণত শ্বাসকষ্ট কমে যায়। 

কিন্তু যখন ওষুধ দেয়ার পরেও শ্বাসকষ্ট কমে না এবং নিউমোনিয়ার লক্ষণও নেই তখন আমরা বুঝি যে তা এডিনো ভাইরাসের সংক্রমণ।

পরিশেষেঃ

প্রিয় বন্ধুগণ আজকের আর্টিকেলটি আপনি যদি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই এই সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছেন এবং আমি আশা করি আপনি উপকৃত হয়েছেন। 

এ ধরনের আর্টিকেল পেতে আমাদের ওয়েবসাইটটি নিয়মিত ভিজিট করতে থাকুন। সবশেষে আমি আপনাদের সকলের মঙ্গল কামনা করে আজকের মত এখানে শেষ করছি। ধন্যবাদ

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url