কি খেলে গর্ভের বাচ্চার ওজন বাড়ে জেনে নিন | Rahul IT BD

কি খেলে গর্ভের বাচ্চার ওজন বাড়ে জেনে নিন

প্রিয় পাঠক আজকের আর্টিকেলটিতে কি খেলে গর্ভের বাচ্চার ওজন বাড়ে, শিশুর ওজন বৃদ্ধির চার্ট, গর্ভাবস্থায় বাচ্চার ওজন বৃদ্ধির উপায়, বাচ্চার ওজন বৃদ্ধির খাবার ইত্যাদি বিষয় সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে আলোকপাত করা হয়েছে।
কি খেলে গর্ভের বাচ্চার ওজন বাড়ে
আপনারা যারা এ সম্পর্কে জানতে আগ্রহী তাদেরকে আজকের আর্টিকেলে স্বাগতম জানাই।

ভূমিকা

প্রিয় বন্ধুগণ আজকের আর্টিকেলে কিভাবে নিজের যত্ন নিলে গর্ভের বাচ্চার ওজন বাড়ানো যায় সে সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করার পাশাপাশি যারা এ সংক্রান্ত বিষয় জানেন না অর্থাৎ জানতে আগ্রহী বা না জানার কারণে সমস্যায় আছেন। 

আপনি যদি এই পোস্টটি শেষ পর্যন্ত পড়তে থাকেন তাহলে এই সমস্যার সমাধান আপনারা পেয়ে যাবেন। 

কি খেলে গর্ভের বাচ্চার ওজন বাড়ে জেনে নিন

একজন মেয়ে যখন প্রথম গর্ভধারণ করেন তার কাছে বিষয়টি খুব স্বপ্নময় হয়ে থাকে। অনাগত শিশুকে নিয়ে তার মধ্যে থাকে বিভিন্ন জল্পনা কল্পনা।

পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোর তুলনায় এশিয়ান দেশের শিশুদের জন্মগত ওজন অনেকাংশে কম থাকে। বাংলাদেশের জন্ম নেয়া শিশুর প্রায় তিন ভাগের এক ভাগ শিশুই কম ওজন নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। আর বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এর কারণ মায়েদের অপুষ্টিজনিত খাদ্য তালিকা।

একজন গর্ভবতী মায়ের নিজের সুস্থতার পাশাপাশি একটা সুস্থ শিশু জন্ম দেওয়ার জন্য গর্ভকালীন সময়ের শুরু থেকেই সুষম খাদ্যাভাস গড়ে তোলা উচিত। প্রতিদিনের খাবার তালিকায় সুষম, স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টি সমৃদ্ধ খাবার রাখা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এটি গর্ভকালীন বাড়তি পুষ্টির চাহিদা নিশ্চিত করে আপনার ও গর্ভের শিশুর সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে সাহায্য করবে।

জীবনের সব পর্যায়ে স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়াটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ আর গর্ভাবস্থায় সুষম খাদ্যাভাস মেনে চলা খুবই জরুরী। গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাস শিশুর অভ্যন্তরীণ গঠনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ সময় শিশুর অঙ্গ প্রত্যঙ্গের বিকাশ ঘটে। গর্ভধারণের প্রথম তিন মাস হরমোনের পরিবর্তন আপনার পুরো শরীরকে প্রভাবিত করবে।

গর্ভকালীন সময়ে প্রথম তিন মাস বাচ্চার ওজন দ্রুত বৃদ্ধি ঘটে, তার সকল অঙ্গ-প্রতঙ্গের পরিপূর্ণ বিকাশ ঘটে। গর্ভের বাচ্চার ওজন বাড়ানোর জন্য একজন গর্ভবতী তালিকায় ফলিক অ্যাসিড, আয়রন, ক্যালসিয়াম, ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড, প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার রাখতে হয়। এসব পুষ্টি উপাদান আপনার ভ্রুনের বৃদ্ধি ও বিকাশে সহায়তা করে এবং গর্ভস্থ শিশুটির মস্তিষ্ক বিকাশে ব্যাপক ভূমিকা পালন করে।

প্রতিটি মানুষের শরীর আলাদা ধরনের তাই গর্ভধারণের পর খাদ্যাভাসের বিষয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চলা উচিত।

* মিষ্টি আলু- মিষ্টি আলু পুষ্টিগুনে ভরপুর একটি খাবার যাতে রয়েছে ভিটামিন বি-৬, পটাশিয়াম, কপার যা শরীর আয়রন শোষণ করতে সাহায্য করে। এবং গুরুত্বপূর্ণ বিটা ক্যারোটিন যার শরীরে ভিটামিন এ তৈরি করে,, যা বাচ্চার চোখ হাড় এবং চামড়া তৈরির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

* আম- পাকা আম খুব দ্রুত বাচ্চার ওজন বৃদ্ধি করে। যদি আমের মৌসুমে আপনি গর্ভবতী হয়ে থাকেন তবে এটি হবে আপনার ও আপনার বাচ্চার জন্য সব থেকে উৎকৃষ্ট খাবার।

* ঢেঁড়স- সবুজ সবজির মধ্যে বাচ্চার ওজন বৃদ্ধি করতে বেশি সাহায্য করে ঢেঁড়স। তাই খাবার তালিকা এতে আছে প্রচুর পরিমাণ আয়রন।

* চিড়া- চিড়া যেমন শরীরের জন্য উপকারী তেমনি বাচার ওজন বৃদ্ধি করার জন্য বেশ কার্যকর একটি খাবার। গর্ভবতী অবস্থায় অনেকের খুব বমি হয়, খেতে পারেনা তারা চিড়া ভিজিয়ে খেতে পারেন। চিড়া বমি ভাব দূর করে খাবারের রুচি বাড়ায় ও বাচ্চার ওজন বৃদ্ধি করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

গর্ভাবস্থায় বাচ্চার ওজন বৃদ্ধির উপায় এবং শিশুর ওজন বৃদ্ধির চার্ট-শতভাগ কার্যকর

গর্ভাবস্থায় একজন মায়ের প্রোটিন, ফাইবার, ফলিক অ্যাসিড, কার্বোহাইড্রেট, ক্যালসিয়াম যুক্ত এবং আয়রন জাতীয় খাবার তার খাবারের তালিকায় রাখতে হবে। এ সমস্ত ভিটামিনযুক্ত খাবার এর মধ্যে যদি একটি বাদ পড়ে যায় তাহলে গর্ভাবস্থায় শিশুর ওজন বাড়বে না। 

তাই গর্ভাবস্থায় একজন মা যদি তার সন্তানের ওজন বৃদ্ধি করতে চায় তাহলে অবশ্যই তাকে নিয়মিত ফলিক অ্যাসিড গ্রহণ করা উচিত হবে। একজন মায়ের খাবারের তালিকায় যদি ফলিক অ্যাসিড এবং আয়রনের মাত্রা কম থাকে তাহলে যেমন রক্তশূন্যতা দেখা দিবে তেমনি শিশুর ব্রেন ডেভেলপমেন্টের ক্ষেত্রেও সমস্যার সৃষ্টি করবে। 

ক্যালসিয়াম যুক্ত খাবার নিয়মিত গ্রহণ করতে হবে পরিমাণ মতো তা না হলে শিশুর হাড় মজবুত হবে না, তাই শিশুর হাড় মজবুত গর্ভবতী মাকে অবশ্যই ক্যালসিয়াম জাতীয় খাবার গ্রহণ করতে হবে। প্রতিদিন একজন গর্ভবতী মাকে গ্লাস থেকে এক গ্লাস দুধ খেতে হবে। 

প্রোটিনের খুব ভালো উৎস হিসেবে চর্বি ছাড়া মুরগির মাংস খেতে পারেন, গরু বা খাসির মাংস খেতে পারেন তবে অতিরিক্ত চর্বি থাকার কারণে গ্যাসের সমস্যাও দেখা দিতে পারে। 

চর্বি ছাড়া মুরগির মাংস খেতে পারলে খেতে যেমন প্রচুর পরিমাণ প্রোটিন রয়েছে আপনার শিশুর ওজন বৃদ্ধির পাশাপাশি ব্রেন্ট ডেভেলপমেন্টের জন্য অনেক ভালো। 

এরপরে সবুজ শাকসবজি এবং প্রচুর ফলমূল খেতে হবে এর মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, মিনারেলস রয়েছে যেটা আমাদের শিশু ওজন বৃদ্ধির জন্য খুবই জরুরী। সে সময় আপনি ভুট্টা গমের রুটি লাল চিড়া রয়েছে সেটা খেতে পারেন অনেকেই রুটি খেতে পারে না তারা চিড়া খেতে পারেন। 

সামুদ্রিকমাছ খেতে পারেন কারণ সামুদ্রিক মাছের প্রচুর পরিমাণে ভালো ফ্যাট রয়েছে প্রচুর প্রোটিন রয়েছে এবং ওমেগা থ্রি সম্পর্কে আমরা অনেকে অবগত রয়েছি সামুদ্রিক মাছের প্রচুর অমেগা থ্রি রয়েছে যা শিশুর ওজন বৃদ্ধির পাশাপাশি ফ্রেন্ড ডেভেলপমেন্টে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। 

তবে সামাজিক মাছটা সপ্তাহে একদিন দুদিন খাওয়া যেতে পারে কন্টিনিউ খাওয়ার দরকার নেই। এরপরে রয়েছে কলা কলাতে রয়েছে প্রচুর পরিমানে আয়রন আপনার শরীরের যে পরিমাণ আয়রন পর্যন্ত আপনি নিয়মিত এক থেকে দুইটি কলা খেলে সে হারুনের ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব। 

এর ফলে আপনার রক্তশূন্যতা দূর হবে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকবে। গর্ভবতী মা নিয়মিত খেজুর খেতে পারে খেজুরের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন রয়েছে এটি একটি পুষ্টিকর খাবার, এই খাবারটি গ্রহণ করলে গর্ভবতী মায়ের স্বাস্থ্য যেমন ভালো থাকবে তেমনি গর্ভ অবস্থায় শিশুর ওজন বৃদ্ধি পাবে। 

গর্ভাবস্থায় বাদাম খুবই কার্যকর একটি খাবার আপনি চাইলে কাজুবাদাম চিনাবাদাম কাঠ বাদাম এগুলো মিক্স করে খেতে পারেন এটা আপনার শরীর স্বাস্থ্য যেমন ভালো রাখবে তেমনি গর্ভাবস্থায় সন্তানের ওজন বৃদ্ধির পাশাপাশি বেন ডেভেলপমেন্টের জন্য খুবই ভালো হবে। 

ডাল বা বিচ জাতীয় যে সমস্ত খাবার গুলো রয়েছে এ সমস্ত খাবারগুলো খাবারে তালিকায় গর্ভাবস্থায় একজন মহিলাকে দেওয়া উচিত বা রাখা উচিত, ডাল যেমন শিশুর ওজন বৃদ্ধি করতে স্বয়ং ভূমিকা রাখবে তেমনি প্রোটিনের খুব ভালো উৎস। 

তাই গর্ভাবস্থায় সন্তানের ওজন বৃদ্ধি করতে চাইলে প্রতিদিন কমপক্ষে দুই থেকে তিনবার ডাল খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে বা খাবারের তালিকায় নিয়মিত রাখতে হবে। গর্ভাবস্থায় শেষের দিকে ঘন ডাল খেলে আরো বেশি ভালো হয়। 

বীজ জাতীয় যে সমস্ত খাবার রয়েছে সিমের বিচি কুমড়োর বিচি এ ধরনের বিচিগুলো খাওয়া যেতে পারে এগুলো খেলে যেমন বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা থেকে আপনি মুক্তি পাবেন তেমনি ভাবে আপনার বাচ্চার জন্যও অনেক পুষ্টিকর হবে।

গর্ভাবস্থায় কি খাবার খেলে সন্তান বুদ্ধিমান ও মেধাবী হবে জানুন

গর্ভধারণের পর থেকেই নিজের এবং গর্ভের সন্তানের সুস্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করে বিশেষ যত্ন নিতে হয়। জীবনের সব পর্যায়ে স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়াটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ আর গর্ভাবস্থায় সুষম খাদ্যাভাস মেনে চলা খুবই দরকার। 

গর্ভকালীন সময়ে একজন মাকে প্রথম তিন মাস খাদ্য তালিকায় ফলিক অ্যাসিড, আয়রন, ক্যালসিয়াম ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড, প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার রাখতে হয়। এসব পুষ্টি উপাদান আপনার ভ্রুনের বৃদ্ধি ও বিকাশের সহায়তা করে এবং সন্তান বুদ্ধিমান ও মেধাবী করতে ব্যাপক ভূমিকা পালন করে।

গর্ভাবস্থায় খাদ্য তালিকায় কিছু খাবার থাকলে গর্ভস্থ শিশুটির মস্তিষ্কের বিকাশ সঠিকভাবে হয়। আসুন জেনে নেই সেসব খাবার সম্পর্কে।

* আয়রন ও ফলিক অ্যাসিড- গর্ভধারণের শুরু থেকেই আপনার ডাক্তার আপনাকে ফলিক এসিড ও আয়রন খাওয়ার জন্য পরামর্শ দিয়ে থাকেন। 

কারণ আয়রন ও ফলিক অ্যাসিড অনাগত সন্তানের জন্মগত ত্রুটি প্রতিরোধে সাহায্য করার পাশাপাশি তার বৃদ্ধি, ব্রেন ডেভেলপমেন্ট ও বুদ্ধিমত্তা বাড়াতে সাহায্য করে। কলা, শুকনো ফল, পুদিনা পাতা, সবুজ শাকসবজিতে, ডুমুর, আয়রন ও ফলিক এসিডে ভরপুর।

* প্রোটিন যুক্ত খাবার- গর্ভাবস্থায় প্রথম তিন মাস প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া প্রয়োজন। যে সমস্ত খাবারে প্রোটিন পাওয়া যায় সেগুলো প্রতিদিন খেতে হবে এতে বাঁচার ওজন বৃদ্ধি পাবে যেমন তেমনি মস্তিষ্ক বিকাশে সাহায্য করবে। 

ডিম, মাছ, মাংস, ডাল, বিন্স, সিড নিয়মিত খেলে শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশ ভালো হবে। স্যামন, টুনা, মেকারেল ইত্যাদি মাছ শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশের জন্য খুবই জরুরী।

ডিম অ্যামিনো এসিড কোলিন সমৃদ্ধ। গর্ভবতী নারীদের দিনে অন্তত দুটো করে ডিম খাওয়া উচিত যার ফলে গর্ভের সন্তানের মস্তিষ্কের গঠন ভালো হয় ও স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পায়। ডিমে থাকা প্রোটিন ও আয়রন জন্মের সময় শিশুর ওজন বাড়িয়ে দেয়।

*ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিডযুক্ত খাবার- ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিডযুক্ত খাবার গ্রহণ করলে শিশুর শৈশবে চোখের দৃষ্টি শক্তি, বুদ্ধি ও ভাষার বিকাশ খুব ভালোভাবে হয়। এছাড়াও শিশুর বুদ্ধি ও স্নায়ুতন্ত্র বিকাশে সাহায্য করে। 

গর্ভাবস্থায় প্রথম তিন মাসে ভিটামিন এ, ডি, ও সি যুক্ত খাবার প্রচুর খাওয়া দরকার। কুমড়ার বিচি, সামুদ্রিক মাছ ও কড লিভার ওয়েলে প্রচুর ওমেগা-৩ থাকে।

* অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার- সবুজ শাকসবজি বিশেষ করে বাঁধাকপি, পালং শাক, ব্রকলি, গাজর, টমেটো প্রতিদিন খাবারে তালিকায় রাখতে হবে। এগুলোতে লুটেইন নামক এন্টি-অক্সিডেন্ট থাকে যা মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

* আয়োডিন সমৃদ্ধ খাবার- সন্তানের বুদ্ধিমত্তার বিকাশে আয়োডিন খুবই জরুরী।গর্ভাবস্থার প্রথম বারো সপ্তাহে সন্তানের আই কিউ কম করে দিতে পারে আয়োডিনের অভাব দেখা দিলে। 

তাই গর্ভাবস্থায় আয়োডিনযুক্ত লবণ খান এছাড়াও সামুদ্রিক মাছ, ডিম দুধ ও দই গলদা চিংড় ,ভুট্টা ইত্যাদি খেতে পারেন।

* কপার ও জিংক- খাদ্য তালিকায় কাজুবাদাম, এভোকাডো, মটরশুঁটি, বিট ও জিংক সমৃদ্ধ খাবার যেমন শস্য জাতীয় খাবার, ছোলা, গরুর মাংস পরিমাণ মত রাখতে হবে এতে গর্ভের সন্তান বুদ্ধিমান ও মেধাবী হবে।

* কোলিন যুক্ত খাবার- ডিমের কুসুমে প্রচুর কোলিন ও প্রোটিন রয়েছে। গর্ভস্থ শিশুর মস্তিষ্ক বিকাশে এবং স্মৃতিশক্তি বাড়াতে ডিমের কুসুমের কোন বিকল্প নেই। এটিতে ভিটামিন ডি থাকে যা শরীরকে ক্যালসিয়াম শোষণ করতে সাহায্য করে। এজন্য প্রতিদিন সকালে ১০ থেকে ১৫ মিনিট শরীরের রোদ লাগালে ভালো।

* ফল ও শাকসবজি- গর্ভাবস্থায় স্বাস্থ্যকর খাদ্যের অপরিহার্য অংশ ফল এবং শাকসবজি। কারণ এগুলো ভিটামিন, খনিজ এবং ফাইবার সমৃদ্ধ। এগুলো শিশুর মস্তিষ্ক এবং স্নায়ুতন্ত্রের বিকাশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 

ফল ও সবুজ শাকসবজি তে থাকে সমস্ত ভিটামিনের উপাদান আর শিশু যখন সঠিক পরিমাণ পুষ্টি ও ভিটামিন পাবে গর্ভাবস্থায় সেই শিশুটি জন্মের পর এমনিতেই বুদ্ধিমান ও মেধাবী হবে। তাই শাক, সাইট্রাসফল, বেরি এবং মিষ্টি আলু খেতে পারেন।

* বাদাম, বীজ-বাদাম এবং স্বাস্থ্যকর চর্বি, প্রোটিন এবং ফাইবারের একটি ভালো উৎস। এগুলো ভিটামিন ই এবং আয়রনের মত প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ করে।

* ব্লুবেরি -ব্লুবেরি হলো এন্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ যা শিশুদের মেধা বিকাশের সহায়তা করে। ব্লুবেরির বিকল্প হিসেবে স্ট্রবেরি, র‍্যামবেরি ব্ল্যাকবেরি, টমেটো, বিনস খাওয়াতে যেতে পারে।

গর্ভাবস্থায় বেশি শুয়ে থাকলে কি হয় এ সম্পর্কে জেনে নিন

আমাদের মধ্যে অনেকের একটি ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে যে, গর্ভাবস্থায় বেশি শুয়ে থাকা বা বিশ্রাম নেয়া উচিত। গর্ভাবস্থায় বেশি শুয়ে থাকলে কি হয় এ বিষয়ে না জানলে অতিরিক্ত বিশ্রাম নেওয়ার ফলে আপনি পড়তে পারেন বেশ কিছু শারীরিক সমস্যায় যা আপনার এবং আপনার গর্ভের সন্তানের ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। গর্ভাবস্থায় বেশি শুয়ে থাকলে বেশ কিছু সমস্যায় পড়তে পারেন।
  • ১. এ অবস্থায় বেশি ঘুমালে অতিরিক্ত ওজন বেড়ে যায়
  • ২. শরীরের পেশি স্ট্রং হয় না
  • ৩. সারাদিন ক্লান্ত অনুভব হয়
  • ৪. পায়ে পানি জমা হওয়া
  • ৫. পেট এবং কোমর ব্যথা হওয়া
  • ৬. বাচ্চার মাথা বড় হয়ে যাওয়া
  • ৭. পা ফুলে যাওয়া
  • ৮. নরমাল ডেলিভারি হওয়ার সম্ভাবনা কমে যাওয়া
  • ৯. বাচ্চা নিচের দিকে নামতে না পারা
  • ১০. অনিদ্রার সমস্যা বা ঠিকমতো ঘুমোতে পারেন না অনেকে।
  • ১১. গর্ভাবস্থায় মহিলাদের শরীরের পাকস্থলীর ওপরে অতিরিক্ত চাপ পড়ে
  • ১২. বদহজম, এসিড রিফ্লাক্স হয় অনেকের
গর্ভাবস্থায় পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেয়া যেমন জরুরী ঠিক তেমনি হাঁটাচলা বা ছোটখাটো কাজকর্ম করা উচিত তবে সে ক্ষেত্রে অবশ্যই সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। অতিরিক্ত শুয়ে বসে থাকা এবং ঘুমানো মা এবং সন্তানের জন্য ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। 

গর্ভাবস্থায় নিয়মিত৬-৮ ঘন্টা সাউন্ড স্লিপ অত্যন্ত জরুরী কারণ এতে মা ও শিশুর স্বাস্থ্য ভালো থাকে এবং বিভিন্ন ধরনের শারীরিক সমস্যা দূর হয়। তাই দিনের বেলায় যদি অতিরিক্ত বিশ্রাম বা বসে থাকা হয় তাহলে রাতে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটতে পারে।

গর্ভাবস্থায় কি কি কাজ করা নিষেধ জেনে নিন

গর্ভাবস্থায় প্রথম তিন মাস এবং শেষের তিন মাস একজন গর্ভবতী মায়ের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ সময় মা ও শিশুর সুস্থতার জন্য অনেক সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়। তবে বিশেষ কোনো সমস্যা যদি না হয় তাহলে একজন গর্ভবতী মা সাবধানতা অবলম্বন করে ছোটখাটো কাজ করতে পারেন। 

তবে এমন কিছু কাজ রয়েছে যেগুলো গর্ভাবস্থায় একজন মায়ের মোটেও করা যাবে না। চলুন তাহলে কি কি কাজ করা নিষেধ সেগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা যাক।

# ভারী ব্যায়াম বা এক্সারসাইজ করা যাবে না- এক্সারসাইজ স্বাস্থ্যের পক্ষে ভালো। তবে এমন কোন ব্যায়াম করা যাবে না যার কারণে পেটে চাপ পড়ে। গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাস যোগব্যায়াম এড়িয়ে চলুন।

# বেশি জোরে হাটবেন না-এ সময় দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা বা বেশি জোরে হাটাহাটি করা উচিত নয়। ফাঁকা জায়গায় হাঁটুন এবং রাস্তা বা ভিড় জায়গায় হাঁটা এড়িয়ে চলুন।

# সিঁড়ি ব্যবহার- গর্ভাবস্থার সময় সিঁড়ি দিয়ে উঠা নামা করতে বারণ করা হয় কারণ এতে পড়ে যাওয়া সম্ভাবনা থাকে। তাছাড়া ঝাড়ু দেওয়া, নোংরা পরিষ্কার, কাপড় ধোয়ার জন্য বারবার ঝুকে যেতে হয় এমন ধরনের কাজ করতে দেয়া চলবে না।

# ক্ষতিকার ওষুধ খাবেন না- গর্ভাবস্থায় একজন নারীকে অপ্রয়োজনীয় ঔষুধ খাওয়া থেকে দূরে থাকা ভালো। যে ওষুধগুলা ডাক্তার পরামর্শ দিয়েছেন খাবার জন্য শুধু সে ওষুধগুলোই খাওয়া উচিত। 

কারণ অতিরিক্ত ওষুধ সেবন আপনার এবং আপনার গর্ভের শিশুর মারাত্মক ক্ষতি ডেকে আনতে পারে। গর্ভাবস্থায় কোন ওষুধ খাওয়ার আগে অবশ্যই আপনাকে সতর্ক হতে হবে।

# গর্ভাবস্থার প্রথম দিকে মিসক্যারেজের ভয় সবচেয়ে বেশি থাকে। তাই এ সময় মাটিতে বসে কোন কাজ করা যেমন সবজি কাটা, বাসন ধোয়া বা রান্না করা যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন। প্রয়োজন হলে চেয়ার বা টেবিলে বসে কাজগুলো করতে পারেন।

# কেমিক্যাল যুক্ত জিনিস- সাদা ভিনেগার, লেবুর রস এবং বেকিং সোডা দিয়ে বাথরুম পরিষ্কার বা অন্যান্য কাজ গর্ভবতী মহিলারা অনেক সময় করে থাকেন। গর্ভাবস্থায় কেমিক্যালযুক্ত ক্লিনিং প্রোডাক্ট ব্যবহার করা একেবারেই ঠিক নয়।

# পেইন্টিং করবেন না- গর্ভাবস্থায় আরেকটি মারাত্মক ক্ষতিকর কাজ হল পেইন্টিং এটা করার ফলে যেমন রাসায়নিক পদার্থ থেকে সংক্রমিত হওয়ার ভয় থাকে তেমনি ঝুঁকে কাজ করতে হয় বলে বাচ্চার জন্য ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। বাড়িতে গর্ভবতী নারী থাকলে সেখানে রং করা উচিত নয়।

জুতা নির্বাচন-গর্ভাবস্থায় একজন নারীর আরামদায়ক এবং নরম জুতার পাশাপাশি পোশাক বাছাই করা উচিত। ঝুঁকে পড়তে হয় এ জাতীয় জুতা না পড়াই ভালো । যে সকল জুতা পড়লে ক্ষতি হবে সেসকল জুতা এড়িয়ে চলুন।

# ধূমপান ও মদ্যপানে বিরত থাকুন- গর্ভাবস্থায় ধূমপান ও মদ্যপান থেকে যতটা পারা যায় দূরে থাকা ভালো কারণ এটা গর্ভের সন্তানের জন্য ক্ষতি ডেকে আনতে পারে। এই দুই অভ্যাস কখনো স্বাস্থ্যকর নয়।

গর্ভবতী মায়ের প্রথম তিন মাসের খাবার তালিকা জেনে নিন

গর্ভকালীন সময়ে প্রতিদিনের খাবার তালিকা সুষম, স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টি সমৃদ্ধ খাবার রাখা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এটি গর্ভকালীন বাড়তি পুষ্টির চাহিদা নিশ্চিত করে আপনার ও গর্ভের শিশুর সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে সাহায্য করবে। 

গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে খাদ্য তালিকায় ফলিক অ্যাসিড, আয়রন, ক্যালসিয়াম ওমেগা-৩, জিংক ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার রাখতে হবে। 

প্রতিটি মানুষের শরীর আলাদা ধরনের তাই গর্ভধারণের পর খাদ্যাভাসের বিষয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চলা উচিত। গর্ভবতী মায়ের প্রথম তিন মাসের খাবার তালিকা যেমন হওয়া উচিত-

১) জিংক-একজন গর্ভবতী মায়ের প্রতিদিন ১১ মিলিগ্রাম জিংক প্রয়োজন। শরীরের কোষ গঠনের জন্য জিংক অত্যন্ত জরুরি একটি পুষ্টি উপাদান। তাই এ সময় সাপ্লিমেন্ট হিসেবে ডাক্তার আপনাকে জিংক ট্যাবলেট খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। 

ডাল, ছোলা, ডিম, কাজুবাদাম, চিনা বাদাম, গরুর মাংস, দুধ জাতীয় খাবার প্রতিদিন খাবার তালিকা রাখতে হবে।

২) ফলিক এসিড- ফলিক অ্যাসিড অনাগত শিশুকে নিউরাল টিউবের ত্রুটি থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। সবুজ শাকসবজি, ডিম, আখরোট, মসুর ডাল ইত্যাদি হলো গর্ভবতী মায়ের জন্য ফলিক এসিডের সমৃদ্ধ প্রাকৃতিক সম্পূরক।

৩) ভিটামিন বি-৬ সমৃদ্ধ খাবার-ভিটামিন বি-৬ বমি বমি ভাব এবং বমি প্রতিরোধে সাহায্য করে। ভিটামিন বি-৬ সমৃদ্ধ খাবারের মধ্যে আছে চর্বিহীন মাংস, হাঁস, মুরগি, সাইট্রাস ফল, সয়াবিন, বাদাম ও এভোকাডো।

৪) সবুজ শাকসবজি- তিন মাসের গর্ভবতী মায়ের খাবার তালিকায় বিভিন্ন রকম সবুজ শাকসবজি অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। সবুজ শাকসবজি খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। 

পালং শাক, ব্রকলি, মিষ্টি আলু, টমেটো, গাজর, বাঁধাকপি, ভুট্টা ইত্যাদি গর্ভবতী মায়ের খাবার তালিকায় রাখা যেতে পারে।

৫) প্রোটিন- ভ্রুনের সঠিক বিকাশের জন্য গর্ভবতী মায়ের খাবার তালিকায় প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার প্রতিদিন রাখতে হবে। দুধ, ডিম, মাছ, মাংস, ডাল ইত্যাদি ভালো প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার। এ সময় মায়ের প্রায় 70 থেকে 100 গ্রাম প্রোটিন প্রয়োজন।

৬)আঁশ জাতীয় খাবার- কোষ্ঠকাঠিন্য এ সময় খুবই কমন ব্যাপার। তাই এই সমস্যা কমাতে উচ্চ ভাইবারযুক্ত খাবার যেমন বাদামী ভাত, ওটস, ছোলা, সবুজ মটর, ভুট্টা বা সবুজ শাকসবজি ইত্যাদি খাওয়াতে হবে। এছাড়া গর্ভাবস্থায় পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করতে হবে।

৭) ক্যালসিয়াম- গর্ভাবস্থায় শিশুর হাড় ও দাঁত গঠনের জন্য ক্যালসিয়াম গুরুত্বপূর্ণ। তাই এ সময় খাদ্য তালিকায় অবশ্যই পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম জাতীয় খাবার রাখতে হবে। যেমন দুধ, দই, পনির, ঢেঁড়স, ডুমুর, পালং শাক, আমন্ড ইত্যাদি। ক্যালসিয়াম শোষণের জন্য ভিটামিন ডি প্রয়োজন। 

তাই প্রতিদিন সকালে অন্তত ১০-১৫ মিনিটের জন্য শরীরে রোদ লাগান। এছাড়াও প্রয়োজন হলে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করতে পারেন।

৮) ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড-ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড শিশুর বুদ্ধি ও স্নায়ুতন্ত্র বিকাশের সাহায্য করে। তাই এই সময়ে খাবারের পাশাপাশি ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা ভালো। এছাড়াও গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে ভিটামিন এ, ডি ও সি জাতীয় খাবার প্রচুর খেতে হয়।

৯) কার্বোহাইড্রেট-ে কার্বোহাইড্রেট শরীরের জন্য শক্তি যোগায়। গোটা সরষে, আলু ও মিষ্টি আলুতে কার্বোহাইড্রেট থাকে যা গর্ভবতী মায়ের শরীরের জন্য ভালো।

১০) দুগ্ধ জাত পণ্য- শক্তিশালী হাড় গঠনে ক্যালসিয়াম কাজ করে থাকে, যা দুগ্ধজাত পণ্যে ভরপুর থাকে। তিন মাসের গর্ভবতী মায়ের খাবার তালিকার দুধ, দই ও পনিরের মতো খাবারের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে।

গর্ভধারণের প্রথম তিন মাস যে লক্ষণগুলো অবহেলা করা যাবে না জানুন

গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাস শিশুর অভ্যন্তরীণ  গঠনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ সময় শিশুর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের বিকাশ ঘটে। গর্ভধারণের প্রথম তিন মাস হরমোনের পরিবর্তন আপনার পুরো শরীরকে প্রভাবিত করবে।

অনেক মায়ের এই সময়ে অসুস্থবোধ, মেজাজ খিটখিটে বমি ও বদহজমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া, স্তনে ব্যথা হওয়া স্বাভাবিক বিষয় অনেকের যোনিপথে স্রাব হয় অনেক গর্ভবতী মহিলা সামান্য রক্তপাত ও অনুভব করতে পারেন এগুলো সবই স্বাভাবিক। 

গর্ভধারণের প্রথম তিন মাসে সাধারণত কিছু লক্ষণ দেখা যায় এবং এগুলো সাধারণত ভেবে অবহেলা করা উচিত নয়।
  • * জ্বর হওয়া
  • * ব্যথা ও অস্বস্তি হওয়া
  • * বুকের ভিতর দাগ বা অন্যান্য কিছু অনুভব করা
  • * বমি ও রক্তক্ষরণ
  • * প্রচন্ড মাথা ব্যথা হওয়া
  • * খুব দ্রুত ওজন বৃদ্ধি পাওয়া
  • * খুবই সামান্য ওজন বৃদ্ধি
  • * তীব্র পেট ব্যথা

গর্ভধারণের প্রথম তিন মাসে যা করণীয় বিষয়গুলো জেনে নিন

  • শুরু থেকে ডাক্তারের তত্ত্বাবধানে থাকুন। প্রতি মাসে একবার ডাক্তারের কাছে যাওয়া ভালো। ওজন, বাচ্চার সঠিক বৃদ্ধি, রক্তচাপ দেখা যাবে। স্বাভাবিকভাবে ওজন বাড়ছে কিনা তাও দেখার জন্য নিয়মিত চেকআপের মধ্যে থাকতে হবে।
  •  বমি বমি ভাব এড়াতে সকালে খালি পেটে দাঁত ব্রাশ না করাই ভালো। রাতে ব্রাশ করে ঘুমান। সকালে শুকনো খাবার খেতে হবে তরল খাবার না খাওয়াই ভালো। বমি বমি ভাব হলে একবারে খুব বেশি তরল খাবার পান করা যাবে না।
  •  হালকা ব্যায়াম করতে পারলে গর্ভকালীন সময়ে ভালো
  •  চা--কফি খাওয়ার অভ্যাস কমিয়ে ফেলুন
  •  ধূমপান এবং মদ্যপান পরিহার করুন
  •  খাবারের পরপরই ঘুমাবেন না। ১০--১৫ মিনিট হালকা হাটাহাটি করতে পারেন
  •  সব সময় মন ভালো রাখার চেষ্টা করুন। কারণ সব সময় মন ভালো থাকলে বাচ্চার সঠিক বৃদ্ধি ও শিশুর মস্তিষ্ক বিকাশের ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
  •  জ্বর, ক্রমাগত বমি, একদম খেতে না পারা এমন সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে ভুল করবেন না।

কি খেলে গর্ভের বাচ্চার ওজন বাড়ে ও নবজাতকের ওজন বৃদ্ধির উপায়-ধারণ কার্যকর

গর্ভবতী মায়েদের ঘুমটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা ব্যাপার। যে সমস্ত কাভারে খুব ভালো পরিমাণ আয়রন রয়েছে প্রোটিন রয়েছে সে সমস্ত খাবার গুলো বেশি বেশি গ্রহণ করতে হবে। নিয়মিত আপনাকে এ ধরনের খাবারগুলো খাবারে তালিকায় রাখতে হবে। 

অতিরিক্ত টেনশনে থাকা যাবে না অতিরিক্ত টেনশনে থাকলে আপনার যেমন স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতি তেমনি আপনার গর্ভের বাচ্চার ওজন বৃদ্ধি হতে বাধা প্রদান করবে। তাই চেষ্টা করবেন টেনশন ফ্রি থাকার জন্য এবং আনন্দে হাসিখুশি থাকার চেষ্টা করবেন। 

বেশি স্ট্রেস নেওয়া উচিত হবে না কারণ বেশি এক্সপ্রেস নিলে আপনার বাচ্চার জন্য সেটি ভালো নাও হতে পারে, রিল্যাক্স থাকার চেষ্টা করবেন বিশেষ করে বাচ্চা যখন গর্ভে থাকবে তখন স্ট্রেস কম রাখার চেষ্টা করবেন। 

প্রিয় মানুষদের কাছাকাছি থাকার চেষ্টা করবেন যাদের সাথে কথা বলতে আপনার ভালো লাগবে তাদের কথা শুনতে ভালো লাগবে যারা আপনাকে ভালো রাখতে পারবে তাদের কাছাকাছি তাহলে টেনশন হওয়ার সম্ভাবনাটা অনেকটা কম থাকবে কারণ তারা আপনাকে সবসময় পরিস্থিতি অনুযায়ী ভালো রাখার চেষ্টা করবে। 

আপনি পজিটিভ চিন্তাভাবনা করবেন সব সময় অনেকটা সেলফ ডিপেন্ডেন্ট থাকার চেষ্টা করবেন এতে আপনি যেমন ভাল থাকবেন তেমনি আপনার শিশু ভালো থাকবে পাশাপাশি পুষ্টিকর খাবার গ্রহণের ফলে গর্ভের বাচ্চার ওজন বাড়বে। 

শুধু পুষ্টিকর খাবার গ্রহণের ফলে বাচ্চার ওজন বাড়বে ব্যাপারটা এমনটা নয়, এর পাশাপাশি আপনাকে অবশ্যই চাপমুক্ত, টেনশনমুক্ত থাকতে হবে। তাহলে বুঝতেই পারছেন একটা সুস্থ বাচ্চা এবং ভালো ওজনের বাচ্চা নিতে চাইলে আপনাকে অবশ্যই টাইম মেনটেন করে খেতে হবে। 

পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করতে হবে প্রচুর পরিমাণ ঘুমাতে হবে রিলাক্স থাকতে হবে তবেই আপনি সুস্থ বাচ্চা পরিমাণ মতো ওজন সহকারে পেতে পারেন।

বাচ্চার ওজন বৃদ্ধির খাবার এবং শিশুর ওজন বৃদ্ধির উপায়-সম্পর্কে জেনে নিন

সর্বপ্রথম যে খাবারের কথা বলব সেটা হল দুধ কারণ এর মধ্যে রয়েছে ফসফরাস, প্রোটিন এবং ক্যালসিয়াম। দুধ এ সমস্ত ভিটামিনস এর ভালো একটি উৎস। তাই নিয়মিত বাচ্চার ওজন বৃদ্ধির জন্য খাবারের তালিকায় পুষ্টিকর এই খাবার রাখতে পারেন। 

এর পরে রয়েছে ডিম ডিমের মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, শিশুর ব্রেন ডেভেলপমেন্টের জন্য প্রতিদিন একটি থেকে দুইটি ডিম খাওয়া খুবই জরুরী। শিশুকে শাকসবজি ফলমূল খাওয়াতে হবে যেটা শিশুর ওজন বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। 

বাচ্চাদেরকে তৈলাক্ত জাতীয় মাছ খাওয়াতে পারেন এ পাশাপাশি সামুদ্রিক মাছ খাওয়ানোর অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন সামুদ্রিক মাছের রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভালো ফ্যাট এবং প্রচুর উচ্চমানের প্রোটিন যা বাচ্চার ওজন বৃদ্ধি করতে সহায়ক হবে পাশাপাশি ব্রেন ও স্মৃতিশক্তি ভালো রাখতে সহায়তা করবে। 

শিশুর ওজন বৃদ্ধির জন্য নিয়মিত একটি থেকে দুইটি কলা খাওয়ানোর অভ্যাস করতে পারেন এর পাশাপাশি ভালো মানের খেজুর অর্থাৎ অর্গানিক খেজুর খাওয়ানোর অভ্যাস করতে পারেন। তারপরে আপনি বাচ্চাকে বিভিন্ন ধরনের বাদাম রয়েছে যেমন চিনা বাদাম কাজু বাদাম কাঠবাদাম। 

এ সমস্ত বাদামগুলো আপনি একসাথে নিয়মিত কিছু পরিমাণ খাওয়ানোর অভ্যাস করতে পারেন শিশু ফলে ওজন বৃদ্ধি পাবে পাশাপাশি ব্রেন ভালো থাকবে স্মৃতিশক্তি ভালো থাকবে। তাই বাচ্চারা যাতে নিয়মিত এই সমস্ত পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করতে পারে সেই ব্যবস্থা করতে হবে।

পরিশেষে

প্রিয় বন্ধুগণ আপনারা যারা আর্টিকেলটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মনোযোগ দিয়ে পড়েছেন আশা করি আপনারা কিভাবে গর্ব অবস্থায় বাচ্চার ওজন বৃদ্ধি করা যায় সে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে পেরেছেন এবং উপকৃত হয়েছেন। 

এ ধরনের আর্টিকেল পেতে আমাদের ওয়েবসাইটটি নিয়মিত ভিজিট করতে থাকুন। আমি আপনাদের সকলের মঙ্গল কামনা করি আজকের মত এখানেই শেষ করছি। ধন্যবাদ

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url